বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) বাংলাদেশে কিশোরী মেয়েদের অণুপুষ্টির ঘাটতি, এর প্রভাব, সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ ও নীতিগত করণীয় নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারিতে ‘বাংলাদেশে কিশোরী মেয়েদের অণুপুষ্টির ঘাটতি: প্রমাণ, হস্তক্ষেপ এবং নীতিগত প্রভাব’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগ এবং যবিপ্রবি রিসার্চ সেল যৌথভাবে এ আয়োজন করে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিন অ্যান্ড ডেন্টিস্ট্রির পাবলিক হেলথ বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারুক আহমেদ।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় অধ্যাপক ড. ফারুক আহমেদ বাংলাদেশের কিশোরী মেয়েদের মধ্যে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থসহ প্রয়োজনীয় অণুপুষ্টির ঘাটতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি অণুপুষ্টির ঘাটতির দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং এ সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবমুখি হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা করা সম্ভব. ফারুক আহমেদ তার গবেষণার মাধ্যমে তা প্রমাণ করেছেন। গবেষণার মানোন্নয়নে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, গবেষণার ফলাফল শুধু গবেষণাপত্রে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। এসব গবেষণালব্ধ ফলাফল দেশের মানুষের কল্যাণে এবং সরকারের নীতি নির্ধারণে কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে দেশের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যবিষয়ক উপাত্তের ভিত্তিতে মানসম্পন্ন টেক্সটবুক রচনার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, কৈশোরকালীন মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এর সঙ্গে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নও সরাসরি জড়িত।
তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ নারী। এর মধ্যে ৩৮ শতাংশ নারী কর্মক্ষম, যারা একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্র ও পরিবার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। ফলে বৃহৎ এই জনগোষ্ঠীর পুষ্টিহীনতা দূর করা অত্যন্ত জরুরি।
গবেষণালব্ধ তথ্য ও সুপারিশগুলো সরকারের নীতি নির্ধারণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কিশোরীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে গবেষণাভিত্তিক পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান এবং ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও আহ্বায়কের বক্তব্য দেন পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শিরিন নিগার। বক্তব্য দেন যবিপ্রবির রিসার্চ সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মিনহাজ উদ্দীন মনির। সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দ।

