হিমেল খান
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যশোর শহরের দর্জিপাড়ায় এখন চরম ব্যস্ততা। রমজানের শুরু থেকেই কাজের চাপ বাড়তে থাকে কারিগরদের। আর মধ্য রমজানে এসে তা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

এরবার অনেক টেইলার্স ইতিমধ্যে নতুন অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, অতিরিক্ত কাজের চাপ সঙ্গে কারিগর সংকটের কারণে আগেভাগেই অর্ডার নেয়া বন্ধ করা হয়েছে।

রমজানের শুরু থেকেই গজকাপড় কিংবা আনস্টিচ পোশাক কিনে ক্রেতারা ছুটছেন দর্জির দোকানে। কেউ পাঞ্জাবি-পায়জামা বানাতে দিচ্ছেন, কেউ সালোয়ার-কামিজ, আবার কেউ শিশুদের পোশাক তৈরির অর্ডার দিচ্ছেন।

সারাবছর তুলনামূলক কাজ কম থাকলেও ঈদের মৌসুমেই সবচেয়ে বেশি কর্মব্যস্ত সময় কাটে দর্জিপাড়ার কারিগরদের। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কাপড়ের কাটাকুটি, মাপ নেয়া, ট্রায়েল দেয়া আর সেলাই মেশিনের টানা শব্দে মুখর পুরো এলাকা।


দর্জিপাড়ারর কারিগররা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডেলিভারি দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আনেক দোকানে ৮ থেকে ১০ রোজার মধ্যেই অর্ডার নেয়া বন্ধ করতে হচ্ছে। শ্রমিক সংকটের কারণে অতিরিক্ত কাজ নেয়া সম্বব হচ্ছে না বলেও জানান তারা।

রাশেদ আলী নামে এক কারিগর বলেন, দিন যত যাচ্ছে টেইলার্সের দিকে মানুষের ঝোঁক বাড়ছে। শবে বরাতের পর থেকে তাদের কাজের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। এখন তা কয়েকগুণ বেড়েছে।

হায়দার আলী বলেন, যশোরের কাজের মান ভালো হওয়ায় শহরের আশেপাশের উপজেলা থেকেও অনেকেই শহরে আসেন অর্ডার দিতে। এতে কাজের চাপ আরো বেড়ে যায়। তবে দক্ষ কারিগর না থাকায় অনেক সময় ইচ্ছা থাকলেও নতুন অর্ডার নেয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে আগেভাগে অর্ডার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। তারা বলছেন, পরিবার পরিজনদের নতুন ডিজাইনের পোশাক উপহার দিতে সাধ্যের মধ্যে জামা বা গজ কাপড় নিয়ে যান দর্জি বাড়ি।

শহরের বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, আগেভাগে না আসায় তিনি কাপড় বানাতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন।

এদিকে মেহেদি হাসান নামে আরেক জন জানান, অর্ডার নেয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পছন্দের কাপড় কিনেও দর্জি না পেয়ে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে তাদের।

মিরাজুল ইসলাম বলেন, নতুন অর্ডার না নেয়ায় বাধ্য হয়ে রেডিমেড পোশাকের দিকে ঝুঁকছেন তিনি।

টেইলার্স মালিকরা বলছেন, নির্বাচনের পর বাজারে কেনাকাটা বেড়েছে এবং ঈদের আমেজে ক্রেতার চাপ চোখে পড়ার মতো। তবে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কারিগর না থাকায় অর্ডার নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

রেজাউল ইসলাম নামে টেইলার্স মালিক বলেন, যে কারিগর রয়েছে তাতে ৮ থেকে ৯ রোজা পর্যন্ত অর্ডার নেওয়া সম্ভব হয়েছে। এরপর নতুন অর্ডার নিলে সময় মত ডেলিভারি দেয়া সম্ভব হবে না।

অপরদিকে রুহুল আমীন নামের আরেক টেইলার্স মালিক জানান, এবার ভালো অর্ডার পেয়েছেন। গতবছরের তুলনায় এবার ক্রেতারা টেইলার্সের দিকে ভিড় করছেন বেশি। এখন সময়মতো কাজ শেষ করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে।

এদিকে শহরের বিভিন্ন টেইলার্স ঘুরে দেখা গেছে, প্রকারভেদে পাঞ্জাবি-পায়জামা তৈরির মজুরি নেয়া হচ্ছে ৪০০ থেকে সাড়ে ৬০০ টাকা। আর সালোয়ার-কামিজ ও শিশুদের ক্ষেত্রে কাপড়ের মজুরি নেয়া হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত ।

বড়বাজার দর্জি শ্রমিক সমিতির সভাপতি আজিজুল ইসলাম বলেন, এবার পরিবেশ স্বাভাবিক থাকায় ব্যবসা ভালো হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা আগের বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন এবারের ঈদ মৌসুমে।

যশোর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছোট বড় মিলে শতাধিক দর্জি দোকানে প্রায় ২৫০ জন কারিগর কাজ করেন। ঈদ ঘিরে তাদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। আর সময়মতো অর্ডার সরবরাহ করাই হয়ে উঠেছে তাদের প্রধান লক্ষ্য।

Share.
Exit mobile version