স্বাধীন মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ
যশোরে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। তিনি বলেছেন, কোনো ধরনের সহিংসতা, অনিয়ম কিংবা বিশৃঙ্খলার সুযোগ কাউকে দেয়া হবে না। কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।
রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইন শৃংখলা কমিটির সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক জানান, যশোর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৮২৪টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ছয়টি করে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। যা অনলাইন ও অফলাইন দুইভাবেই কার্যকর থাকবে। পাশাপাশি পুলিশের ৭৮টি বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের জন্য ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ চালু করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে তিনজন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে এই অ্যাপ থাকবে। যার মাধ্যমে এক ক্লিকেই কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে সব তথ্য পাঠানো যাবে।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, যশোর জেলায় মোট ৪ হাজার ৬৭৯টি ভোটকক্ষ প্রস্তুত রয়েছে। ভোটগ্রহণের জন্য ১৫ হাজারের বেশি প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদের প্রশিক্ষণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের নিয়োগপত্র মঙ্গলবারের মধ্যেই হস্তান্তর করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি উপজেলায় দুইজন করে ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। জেলাজুড়ে মোট ১৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ৪০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রতি সংসদীয় আসনে অতিরিক্ত ১২ জন নির্বাহী ও ৬ জন ইনচার্জ ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন।
যশোর সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় সীমান্ত এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে।
ব্যালট পেপার কিছুটা দেরিতে এলেও এখন আর কোনো সমস্যা নেই জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, গত রাতে আমরা ব্যালট পেপার হাতে পেয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে তা পাঠানো হবে। হাইকোর্ট থেকে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় ব্যালট ছাপাতে কিছুটা সময় লেগেছে হয়ত।
জেলা প্রশাসক জানান, যশোরে ৩০ হাজার পোস্টাল ব্যালট নিবন্ধন করা হয়েছিল। যার প্রায় অর্ধেক কাভার হয়েছে। অনেকেই ভোট না দেয়ায় পুরোটা কাভার করা সম্ভব নাও হতে পারে।
নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে ১১ ও ১২ তারিখ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এছাড়া ঝিকরগাছার গদখালি পর্যটন কেন্দ্র ৮ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে ১৫ তারিখ পর্যন্ত প্যারিস রোড বন্ধ থাকবে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরের ছোট দোকানগুলোও বন্ধ রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, সঠিক ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন করুন। যেন কেউ বিভ্রান্ত না হয়। আইন প্রয়োগে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। নিরপেক্ষতার প্রশ্নে আমরা জবাবদিহিতার মধ্যে থাকব।
সভায় আনসার বাহিনীর কমান্ডার সেফাউল হোসেন জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১৩ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। যার মধ্যে ৪ জন নারী সদস্য থাকবেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে দুইজন অস্ত্রধারী আনসার থাকবে। জেলায় মোট ১০ হাজার ৭১২ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এছাড়া ৮০০ জন আনসার সদস্য রিজার্ভে থাকবেন।
র্যাবের মেজর ফজলে রাব্বী জানান, নির্বাচন ৮ তারিখ রাত থেকে মাঠে থাকবে তার বাহিনী। যে কোনো প্রয়োজনে নিজ দায়িত্ব পালন করবে তারা।
সেনাবাহিনীর কোম্পানি কমান্ডার ২ ইবি মেজর মাসুদ বলেন, গত এক মাসে যশোরে ৭০০’র বেশি টহল পরিচালনা করা হয়েছে। সংখ্যালঘু এলাকায় সেনাবাহিনীর বিশেষ নজরদারি থাকবে। আমরা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করছি। আমরা নির্বাচনে আপনাদের পাশে আছি।
যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে তিন বা ততধিক অস্ত্রধারী পুলিশ থাকবে। দুই শতাধিক মোবাইল স্ট্রাইকিং পার্টি মাঠে থাকবে। তিনি গুজব প্রতিরোধে সবাইকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। সভা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, সিভিল সার্জন মাসুদ রানা, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রফিকুল হাসানসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

