বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোরে স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে ইউনানী চিকিৎসক দিয়ে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা দেয়ার অভিযোগে একটি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র না থাকায় অপর একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সামনে অবস্থিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মীম বিনতে মুস্তাফিজ। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হাসপাতালের সামনে অবস্থিত প্রিন্স ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালানো হয়।
এ সময় প্রতিষ্ঠানটিতে মতিয়ার রহমান নামে এক ব্যক্তিকে রোগী দেখতে পান ভ্রাম্যমাণ আদালত। তিনি এমবিবিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসক নন, বরং ইউনানী চিকিৎসক।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে অ্যালোপ্যাথিকসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ লিখে আসছিলেন। অভিযানে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রিন্স ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক সেলিম হোসেনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন।
অন্যদিকে, একই এলাকার ইসলামী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। অভিযানের সময় সেখানে হাবিবুর রহমান নামে একজন ডিএমএফ চিকিৎসক রোগী দেখছিলেন।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকা ও অনিয়মের কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করে দেন। এছাড়া একই ভবনে লাইফ কেয়ার নামে আরেকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানান পরিচালক ফজলুল হক।
এ বিষয়ে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানান, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবৈধ কার্যক্রম চলতে দেয়া হবে না। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা ও অপচিকিৎসা রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
