বাংলার ভোর প্রতিবেদক
চলে যাওয়ার অর্ধশতাব্দী পূর্ণ হলেও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের কাছ থেকে দূরে সরে যাননি। বরং সময়ের সঙ্গে নানা সংকট, বৈষম্য, সাম্প্রদায়িকতা ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের প্রেক্ষাপটে তিনি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছেন। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-নজরুলের কবিতা ও গান মুক্তিকামী মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। তাই বাংলাদেশের সঙ্গে নজরুলের সম্পর্ক শুধু সাহিত্যকেন্দ্রিক নয়, এটি আমাদের ইতিহাস ও আত্মপরিচয়েরও অংশ।
শনিবার সকালে প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদ (বিএসপি) আয়োজিত ‘চিরঞ্জীব নজরুল’ শীর্ষক আলোচনা, কবিতা পাঠ ও কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
আলোচকরা বলেন, নজরুলের শক্তি ছিল তার বহুমাত্রিকতায়। ইসলামী গান, হামদ-নাত ও গজলের পাশাপাশি তিনি শ্যামাসংগীত এবং হিন্দু পুরাণনির্ভর অসংখ্য গান ও কবিতা রচনা করেছেন। ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি মানুষের পরিচয়কে সবচেয়ে বড় করে দেখেছেন। তাঁর উচ্চারণ ‘গাহি সাম্যের গান/মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান’ আজও মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের চিরন্তন আহ্বান হয়ে আছে।
বক্তারা আরও বলেন, নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার ‘চির-উন্নত মম শির’ উচ্চারণ বাঙালির আত্মমর্যাদা ও প্রতিবাদী চেতনার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। কেবল আনুষ্ঠানিকভাবে কবির জীবন ও সাহিত্য স্মরণ করলেই হবে না; নতুন প্রজন্মের কাছে নজরুলের চিন্তা, দর্শন ও সাহিত্যকে পৌঁছে দিতে হবে। তাদের নজরুলকে জানার ও পড়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।
বিএসপির সাধারণ সম্পাদক কবি গোলাম মোস্তফা মুন্নার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. মুস্তাফিজুর রহমান। আলোচক ছিলেন দৈনিক রানারের সাহিত্য সম্পাদক কবি মামুন আজাদ। প্রবন্ধ পাঠ করেন সহকারী অধ্যাপক মনিরুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য দেন বিএসপির নির্বাহী সদস্য কবি অরুণ বর্মন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজসেবক এম বাদল, এস এম আলমগীর কাইয়ুম, কবি ও কথাসাহিত্যিক রাশিদা আখতার লিলি এবং যশোর ইনস্টিটিউটের কার্যনির্বাহী সদস্য আনিসুজ্জামান পিন্টু। আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন দৈনিক রানারের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আর এম কবিরুল আলম দিপু।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কবি সুরাইয়া শরীফ, আবু দাউদ মোসলেহ উদ্দিন রতন, বাগবুল মাহবুব, রেবেকা টপি, ইমদাদুল হক বকুল, মঞ্জুয়ারা সোনালী, হোসেন আলী, আতিয়ার রহমান, গাজী শহিদুল ইসলাম, তৃষা চামেলি, সৈয়দ ইমদাদুল হকসহ অনেকে।
পরে কবিতা পাঠ করেন কবি ভদ্রাবতী বিশ্বাস, শাহরিয়ার সোহেল, ডা. অমল কান্তি সরকার, টিপু সুলতান, অ্যাডভোকেট মাহমুদা খানম, মশিয়ার রহমান মোহন, আবু রায়হান, রকি মাহমুদ, সীমান্ত বসু, সঞ্জয় নন্দী, সানজিদা ফেরদৌস, আব্দুর রশিদ খোকন, রফি উদ্দিন, গোলাম মোস্তফা ও শরীফ হোসেন ধীমানসহ কবিরা।
অনুষ্ঠানে বিএসপি পরিবারের ১৬ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। এ ছাড়া আবেদা-শামসুদ্দীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক কবি রাশিদা আখতার লিলি কৃতি শিক্ষার্থী মোস্তানূর রহমান সাক্ষরকে সম্মাননা পদক প্রদান করেন।

