কাজী নূর
রমজানে যশোরে ইফতারের বাজার জমে উঠেছে। দুপুরের পর থেকে হোটেল বা অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ইফতারের দোকানে ক্রেতাদের তীব্র ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ব্যবসায়ীরা নানা রকম ইফতার সামগ্রির পসরা সাজিয়ে হাঁক, ডাক দিয়ে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টাও করছেন। তবে বিকেল সাড়ে ৫টার সব দোকানেই ক্রেতারা একযোগে ভিড় জমান বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। স্থান ভেদে দেখা গেছে বিভিন্ন ইফতার সামগ্রির দাম সর্বনিম্ন ৫ টাকা ও সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা। সেই সাথে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে রয়েছে প্যাকেজ সিস্টেমে ইফতারের আয়োজন।

এ বছর শহরের বিভিন্ন হোটেল রেস্তোরাঁয় ইফতার আয়োজনে যোগ হয়েছে বেশ কয়েকটি নতুন না। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে নার্গিস চপ, চিকেন চপ, আফগান রোল প্রভৃতি। বিক্রেতারা বলছেন নতুন হলেও এসব আইটেমের বিক্রি বেশ ভালো।
বুধবার বিকেলে শহরের জেনারেল হাসপাতাল এলাকা, দড়াটানা, হাজী মোহাম্মদ মহসিন রোড বড়বাজার, বকুলতলা ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

হাসপাতাল এলাকার চৌধুরী হোটেলের মালিক রবি চৌধুরী বাংলার ভোরকে বলেন, মূলত হাসপাতাল, ক্লিনিক, চিকিৎসক, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা আমাদের ক্রেতা। এবার রমজানে ইফতারের বিক্রি প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। গতবারে বিক্রিতে ধস নেমেছিল।

একটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম বলেন, এবার ইফতারের দাম বাড়েনি তবে আকার বৃদ্ধি পেয়েছে। যেটা ভালো দিক।

ভৈরব হোটেলের ম্যানেজার হাফিজুর রহমান বলেন, গতবারের মতো এবারো আমাদের তৈরি হালিম সবচে বেশি বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য আইটেম তো রয়েছেই।

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের স্টাফ আব্দুস সালাম বলেন, বাড়িতে ইফতার তৈরি অনেক ঝামেলা। সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতার তৈরি করা নারীর জন্য বেশ কষ্টদায়ক। তাই বরবারই আমি হোটেল থেকে ইফতার কিনে থাকি।
হাজী মোহাম্মদ মহসিন রোড বড়বাজারের নুর হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের মালিক নোমানুর রশীদ রিপন বাংলার ভোরকে বলেন, রমজানে হোটেল ব্যবসায় লাভ হয় না।

তবু হোটেল চালু রাখতে হয়। বাপ দাদা এভাবে ব্যবসা করে গেছেন। তাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে, তাদের শেখানো পখে ইফতার সামগ্রির ব্যবসা চালু রেখেছি। বিক্রি কেমন জানতে চাইলে নোমানুর জানান, সারাদিনে বিক্রি ভালো না। তবে ইফতার সামগ্রির বিক্রি বেশ ভালো। তার দোকানের পিঁয়াজি, বেগুনি, আলুর চপ, ডিমের চপ, ছোলা ভূনা, ফুলুড়ি, ফিরনি, দই, জিলাপি, হালিমসহ অন্তত ১০টি আইটেম ইফতারের শেষ মুহূর্তে শেষ হয়ে যায়। এরপরেও চাহিদা থেকে যায়।

ওরিয়েন্ট ফুড প্রোডাক্টসের বিপণন কর্মী মেহেদী হাসান কালাম বলেন, আলহামদুলিল্লাহ আমাদের বেচা বিক্রি ভালো। আমাদের স্পেশাল আইটেম নার্গিস চপ ও চিকেন চপ হট আইটেম। খুব ভালো চলছে। এছাড়া আমাদের তৈরি থাই ফ্রাইড চিকেন, চিকেন বল, চিকেন কোপ্তা, জালি কাবাব, প্লেন পরোটা, কিমা পরোটা, সবজি রোল, চিকেন চপ, চিকেন সাসলিক, চিকেন ললিপপ, তান্দুরি চিকেনসহ অন্তত ২২টি আইটেম বিক্রি হচ্ছে নিয়মিত।

পুরাতন কসবা আজিজ সিটির বাসিন্দা আশরাফুর রহমান হ্যাভেন বলেন, ওরিয়েন্ট ফুডের তৈরি ইফতার আমাদের পরিবারের সকলের প্রিয়। তাই একটু দূরে হলেও নিয়মিত এখান থেকে কেনাকাটা করি। যদিও এখানে দাম একটু বেশি। তবে মানে সেরা।

শহরের হযরত গরীব শাহ সড়কের বকুলতলায় সিসিটিএস ভবনের দোতলায় অবস্থিত রেড টাউন রেস্টুরেন্টে গিয়ে দেখা গেছে, খুচরার পাশাপাশি তারা প্যাকেজ আকারে ইফতার সামগ্রি বিক্রি করছেন। চারটি প্যাকেজের সর্বনিম্নটি জনপ্রতি ২৫০ টাকা (৮টি পদ), দ্বিতীয়টি ৩৯০ টাকা (১০টি পদ), তৃতীয়টি (৯টি পদ) এবং চতুর্থ প্যাকেজ ৫৯৯ টাকা (১৩টি পদ)। এ রেস্টুরেন্টটির বিফ হালিম ও আফগানি রোল এবার বিক্রিতে সাড়া ফেলেছে।

রেড টাউন রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বলেন, রমজানে আমাদের ইফতার সামগ্রির বিক্রি ভালো হচ্ছে। রোজ কোন না কোন ওষুধ কোম্পানি আমাদের এখানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করছে। যেমন আজ যশোরের সকল গাইনোকোলজিস্টদের নিয়ে প্রোগ্রাম চলছে। বড় কথা খাবারের মান বজায় রাখা আমাদের প্রথম শর্ত।

ইব্রাহিম খলিল আরো বলেন, আমাদের তৈরি চিকেন সাসলিক, হালিম, জালি কাবাব, আফগানি রোল ক্রেতাদের ভিশন প্রিয়।

Share.
Exit mobile version