বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন পরীক্ষার্থী ডিজিটাল নকলের ডিভাইস ব্যবহারের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে যশোর সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। কলেজের কলা ভবনের ১১৬ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা চলাকালে এক পরীক্ষার্থীর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাকে আটক করা হয়। আটক পরীক্ষার্থীর নাম ইশতিয়াক আহমেদ।
যশোর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক নাজমুল হাসান ফারুক জানান, পরীক্ষা চলাকালে ইশতিয়াক আহমেদ ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে নকল করার চেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি নজরে এলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামিউল আলম তাকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে তার কাছ থেকে নকলের কাজে ব্যবহৃত একটি বিশেষ ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
অন্যদিকে, যশোর ইসলামীয়া বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার অভিযোগে বেলাল হোসেন খান নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। কেন্দ্র সচিব রেজাউল হক জানান, জাহিদ হাসান নামের এক পরীক্ষার্থীর পরিবর্তে বেলাল হোসেন পরীক্ষায় অংশ নিতে আসেন। তবে প্রবেশপত্রে থাকা ছবির সঙ্গে পরীক্ষার্থীর চেহারার মিল না পাওয়ায় কর্তব্যরতরা বিষয়টি নিশ্চিত হন। পরে তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানা বলেন, যশোর সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্র থেকে আটক ইশতিয়াক আহমেদকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। অপরদিকে ইসলামীয়া বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রক্সি দিতে আসা বেলাল হোসেন খানের বিরুদ্ধে মামলা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

