বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ৫৪১তম জন্মতিথি ও দোলযাত্রা উৎসব উদযাপিত হয়েছে। মঙ্গলবার গৌরপূর্ণিমা তিথিতে সনাতন ধর্মীয় নানা আচার অনুষ্ঠান শেষে আবিরে-আনন্দে আলোচনাসভা, নৃত্যে, পূজা-হোমযজ্ঞে উদযাপিত হয়েছে দোল পূর্ণিমা।
এদিন সকালে সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের উদ্যোগে সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজ ক্যাম্পাসে এ উপলক্ষে আলোচনা, মঙ্গল শোভাযাত্রা ও রঙের উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
‘এসো ঋত-ঋদ্ধির পথে’ এমন আহ্বান জানিয়ে কলেজের অ্যাকাডেমিক ভবনের দ্বিতীয়তলা হলরুমে অনুষ্ঠিত এ আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলেজের ভূগোল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক নীতিশ কর্মকার, গণিত বিভাগের অধ্যাপক অসীম কুমার দত্ত।
আলোচনা করেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ, যুগ্ম সম্পাদক রতন আচার্য্য, সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ যশোর জেলা শাখার সভাপতি বিদ্যুৎ কুমার দে, সাধারণ সম্পাদক সত্যজিৎ মজুমদার, মাইকেল মধুসূদন কলেজ শাখার সভাপতি সাবেক সভাপতি কাজল মণ্ডল।
সভাপতিত্ব করেন সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ মাইকেল মধুসূদন কলেজ শাখার সভাপতি অতনু ঘোষ। গীতাপাঠ করেন ঋতুপর্ণা হালদার। সঞ্চালনা করেন অক্ষয় মল্লিক।
বক্তারা সবাইকে মানবকল্যাণে ব্রতী হবার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান থেকে যশোর মাইকেল মধুসূদন কলেজ ক্যাম্পাসে স্থায়ী মন্দির প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।
শেষে ক্যাম্পাসে বর্ণিল আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। এরপর দোলপূর্ণিমার মূল আকর্ষণ পরস্পরকে আবির মাখিয়ে উৎসব উদযাপন করা হয়।
এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে ও মন্দিরে রাধা ও কৃষ্ণের বিগ্রহ আবিরের রঙে স্নাত করে দোলায় চড়িয়ে কীর্তন, গান সহকারে শোভাযাত্রা বের করা হয়। এরপর ভক্তেরা আবির ও গুলাল নিয়ে পরস্পর রং খেলেন। দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে আয়োজিত এ উৎসবে ভক্তরা সৃষ্টিকর্তার কাছে ন্যায়ের বিজয় ও অন্যায়ের বিনাশ প্রার্থনা করেন।
দোল উৎসব মূলত ছোটদের কাছে বেশি রঙিন। তবে সব বয়সের নারী পুরুষই একে অপরকে আবিরের রঙে রাঙিয়ে দেন। কেননা মনের কালিমা মুছে স্বচ্ছতার রঙে রঙিন হবার দিন এটি। কম বয়সিরা বয়সে বড়দের প্রণাম করে আশীর্বাদ নেয়।
এছাড়া, যশোর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির, নীলগঞ্জ মহাশ্মশান, বেজপাড়া পূজা সমিতি মন্দির, পশ্চিম-বারান্দী নাথ পাড়া সার্বজনীন মন্দিরসহ পাড়া মহল্লা ও বাড়িতে বাড়িতে দোল পূজার আনুষ্ঠানিকতা পালন হয়েছে। শাস্ত্র মেনে রাধা ও কৃষ্ণের বিগ্রহ আবিরের রঙে রাঙিয়ে পূজা ও কীর্তন করা হয়।

