হিমেল খান
যশোরের সাতমাইল পাইকারি সবজি হাটে করলা ও পটলের দামের পতন দেখা গেছে। পাইকারি বাজারে করলা ৫ টাকা কেজি এবং পটল ৩ টাকা কেজি দরে কৃষকের কাছ থেকে কেনা হলেও খুচরা বাজারে তা যথাক্রমে ৬০ টাকা ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে পাইকারি ও খুচরা বাজারে দামে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। ফলে কৃষক লোকাসনের মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে ক্রেতাদের ব্যয় বাড়ছে।
স্থানীয় কৃষকেরা জানিয়েছেন, তারা কয়েক মাসের পরিশ্রমে উৎপাদিত ফসল বাজারে নিয়ে এসে উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে অনেক কৃষক আর্থিক ক্সতির মুখে পড়ছেন এবং পরবর্তী মৌসুমে চাষাবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
যশোর সদর উপজেলার নোঙ্গরপুর গ্রামের কৃষক বদরুল আলম জানান, তিনি চার বিঘা জমিতে করলার চাষ করেছেন। এই চাষে তার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে হাটে পাইকাররা করলা কিনছেন ৫ টাকা কেজি দরে। এই দামে বিক্রি করে তিনি বড় ধরনের লোকসানে পড়েছেন।
একই গ্রামের কৃষক আবুর রউফ জানান, তিনি মাঠ থেকে প্রায় ৯ মণ করলা ৫ টাকা কেজি দরে পাইকার ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেছেন। এতে খরচ উঠছে না তার।
কৃষক ইদরিস আলী জানান, সার, কিটনাশক শ্রমিক ও অনান্য খরচ মিলিয়ে তার উৎপাদন ব্যয় প্রায় ১ লাখ টাকা হলেও বর্তমান বাজার দরে বিক্রি করে সেই খরচ তুলতে পারছেন না। তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে ভবিষতে সবজি চাষ করা সম্বভ হবে না।
অন্যদিকে পাইকারি আড়তদাররা দাবি করেছেন, এ বছর করলা ও পটলের সরবরাহ তুলোনামূলকভাবে বেশি থাকায় বাজারে দাম কমে গেছে। অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে বাজারের চাপ তৈরি হয়েছে বলেও তারা জানান।
পাইকারি ব্যবসায়ী মুস্তাক হোসেন বলেন, তিনি ঢাকা,বরিশাল,রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যশোরের সবজি সরবরাহ করেন। তবে এবছর সবজির যোগান বেশি হওয়ায় দাম কমেছে এবং বাজার স্বাভাবিকভাবেই নিচের দিকে নেমেছে।
আরেক পাইকারি ব্যবসায়ী আলম দাবি করেন, তারা কৃষকের কাছ থেকে যে দামে সবজি কেনেন, তার সঙ্গে সামান্য লাভ যুক্ত করে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করেন। তবে পরিবহন খরচ ও বাজার পরিস্থিতিও দামের ওপর প্রভাব ফেলে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শহরের বিভিন্ন খুচরা বাজার গুলো ঘুরে দেখা যায়, পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারে সবজির দাম কয়েক গুন বেশি। করলা ৬০ টাকা কেজি এবং পটল ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দামের এই ব্যবধানে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা।
এ বিষয়ে যশোরের সিনিয়র বাজার বিপণন কর্মকর্তা কিশোর সাহা জানান, মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে। তবে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মনিটরিং চলছে।
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৮৭ হেক্টর জমিতে করলার চাষ হয়েছে।

