বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নে ব্যাংকে বন্ধক রাখা জমি তথ্য গোপন করে বায়নানামা দলিল করার মাধ্যমে বিক্রির এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। রূপালী ব্যাংক যশোর শাখায় জামানত হিসেবে রাখা জমি ‘দায়মুক্ত’ দাবি করে বিক্রি করায় চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ক্রেতা। অন্যদিকে, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এমন ঘটনা ঘটলে তারা আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

প্রাপ্ত তথ্য ও বায়না দলিল সূত্রে জানা গেছে, যশোর সদরের ৫১ নং রঘুরামপুর মৌজার ৮ শতক জমির বর্তমান মালিক আনোয়ারুল ইকবাল (পিতা: মোরাদ আলী)। তিনি বিগত ২২ সালের আক্টোবর মাসের ১৭ তারিখে জনৈক ফসিয়ার রহমানের নিকট হতে ১৭৬৪৯ নং কবলা দলিল মূলে জমিটি ক্রয় করেন এবং পরবর্তীতে সেপারেশন ৭০৮ নং খতিয়ানে নিজের নামে নামজারি সম্পন্ন করেন।

গত বছরের ১০ আগস্ট তারিখে আনোয়ারুল ইকবাল তার ‘জরুরি নগদ টাকার প্রয়োজন’ দেখিয়ে একই এলাকার নজরুল ইসলামের কাছে জমিটি ২০ লাখ টাকায় বিক্রির চুক্তি করেন। চুক্তির শর্তানুযায়ী, ওই দিনই তিনি নগদ ১৬ লাখ টাকা বায়না গ্রহণ করেন এবং আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে অবশিষ্ট ৪ লাখ টাকা গ্রহণ করে সাফ-কবলা দলিল সম্পাদন করে দেয়ার অঙ্গীকার করেন।

জমির বায়নানামা সম্পাদনের পর বেরিয়ে আসে এক ভয়াবহ তথ্য। জানা যায়, উক্ত জমিটি আনোয়ারুল ইকবাল পূর্বেই রূপালী ব্যাংকের একটি শাখায় ঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে রেখেছেন। বায়না দলিলে জমিটি সম্পূর্ণ নির্দয় ও নিষ্কণ্টক দাবি করা হলেও ব্যাংকের দায়দেনার বিষয়টি সচেতনভাবে গোপন করা হয়েছে।

জমির ক্রেতা নজরুল ইসলাম বলেন, আমি সরল বিশ্বাসে তার কাগজ দেখে ১৬ লাখ টাকা দিয়েছি। এখন জানতে পারছি জমিটি ব্যাংকে বন্ধক রাখা। তিনি আমার সাথে বড় ধরনের প্রতারণা করেছেন।

বায়না দলিলে দাতা অঙ্গীকার করেছিলেন যে, যদি তিনি রেজিস্ট্রি করে দিতে টাল-বাহানা বা তঞ্চকতার (প্রতারণা) আশ্রয় নেন, তবে গ্রহীতা আইনের আশ্রয় নিতে পারবেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ায় স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত আনোয়ারুল ইকবালের পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী ক্রেতা এখন তার দেয়া ১৬ লক্ষ টাকা ফেরত পাওয়া এবং প্রতারকের বিচার দাবিতে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

রূপালী ব্যাংক যশোর শাখার এজিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, জামানতকৃত জমি ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া বা ঋণ পরিশোধ না করে বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। যদি কেউ বিক্রি করে তাহলে বাংলাদেশের আইন অনুসারে ব্যাংক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Share.
Exit mobile version