বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীন-এর আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি। বুধবার দুপুরে সমিতির জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতও বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যুগ্ম জেলা জজ রাশেদুর রহমান-এর আদালতও বর্জন অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর-এর সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এম. এ. গফুর। সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক সভাপতি এম. ইদ্রিস আলী, শরীফ নুর মোহাম্মদ আলী রেজা, কাজী ফরিদুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলম বাচ্চু, সিনিয়র আইনজীবী জাফর সাদিক, মঈনুল হক খান ময়না এবং সাবেক জিপি সোহেল শামীমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, জামিন দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তাদের ক্ষোভ না থাকলেও ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে আইরিন পারভীন আইন-কানুন সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখেন না। তিনি দায়িত্ব পালনে অযোগ্যতার পরিচয় দিচ্ছেন।
আইনজীবীরা দাবি করেন, তিনি নিয়মের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এবং আইনজীবীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছেন। এ বিষয়ে পূর্বে সমিতির পক্ষ থেকে তার সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং আচরণ আরও খারাপ হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আইনজীবীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে যশোর জেলা ও দায়রা জজ পদে স্থায়ী বিচারক না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন একাধিক বিচারক। এতে করে বিচারপ্রার্থীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে তাদের দাবি। ভারপ্রাপ্ত বিচারকের হাতে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ক্ষমতা না থাকায় পূর্ণাঙ্গ বিচারিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। যার প্রভাব পড়ছে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের ওপর।
আদালত সূত্রে জানা যায়, যশোরের সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ নাজমুল আলম গত বছরের ২৮ আগস্ট বদলি হন। পরে ৫ নভেম্বর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে যোগ দেন মোহাম্মদ আলী। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি তাকেও বদলি করা হলে পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। এরপর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজদের মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক এম এম মোর্শেদ কিছুদিন ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজের দায়িত্ব পালন করলেও সম্প্রতি ঢাকায় বদলি হন। পরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক আইরিন পারভীনকে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর পর থেকেই আইনজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিচারকদের বক্তব্য জানা যায়নি।
