বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর যশোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীনের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার দুপুরে আদালতের এজলাসে আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনজীবীরা বিচারকের প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে অনাস্থা জানিয়ে আদালত মুলতবি ঘোষণার আবেদন করেন। পরে বিচারক আবেদন মঞ্জুর করে এজলাস ত্যাগ করেন।
আইনজীবীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যশোরের গুরুত্বপূর্ণ এই আদালতে স্থায়ী জেলা ও দায়রা জজ না থাকায় বিচারিক কার্যক্রমে স্থবিরতা ও নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এমএ গফুর সাংবাদিকদের বলেন, ভারপ্রাপ্ত বিচারক আইরিন পারভীন বিচার বিভাগীয় মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন না বলে আইনজীবীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল। আজ এজলাসে বিষয়টি নিয়ে কথাকাটাকাটি ও অনাস্থা প্রকাশের পর আমরা আদালত মুলতবি ঘোষণার আবেদন জানাই। জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে আমরা দ্রুতই বিচারকের সঙ্গে আলোচনায় বসব এবং পরবর্তী করণীয় ঠিক করব।

অন্যদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিকে ‘সামান্য ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে দেখছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এটি মূলত দুই পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক ভুল বোঝাবুঝি। আমরা আলোচনার মাধ্যমে আজই বিষয়টি মীমাংসা করতে পারব বলে আশা করছি।

আদালত সূত্র জানায়, গত বছরের ২৮ আগস্ট তৎকালীন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ নাজমুল আলম বদলি হওয়ার পর থেকেই এই সংকট শুরু হয়। এরপর ৫ নভেম্বর মোহাম্মদ আলী যোগদান করলেও চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি তিনিও বদলি হয়ে যান। ফলে জেলা ও দায়রা জজ পদটি আবারও শূন্য হয়ে পড়ে।

বর্তমানে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজদের মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সম্প্রতি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া আইরিন পারভীনকে ভারপ্রাপ্ত জেলা জজের দায়িত্ব দেওয়া হলে আইনজীবীদের মধ্যে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

সিনিয়র আইনজীবীদের মতে, ভারপ্রাপ্ত বিচারকের পক্ষে পূর্ণাঙ্গ বিচারিক সেবা নিশ্চিত করা কঠিন। তাঁর হাতে সর্বোচ্চ ক্ষমতা না থাকায় আইনি সেবা প্রত্যাশীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এর ফলে আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের ওপর। তারা দ্রুত এই আদালতে একজন স্থায়ী সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

Share.
Exit mobile version