বাংলার ভোর প্রতিবেদক

যশোর সদর উপজেলার ওসমানপুর সিকদারপাড়া এলাকায় এক সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখল, পাকা বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, মারপিট এবং বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একদল প্রভাবশালী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় বাড়িছাড়া অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। এই ঘটনায় সুজন সিকদার বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওসমানপুর সিকদারপাড়া এলাকার সুজন সিকদার ও তার পরিবার তাদের চাচা অচিন্ত সিকদারের সাথে জমি এওয়াজ বদল (বিনিময়) করে বিগত প্রায় ৬ বছর ধরে সেখানে পাকা বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিলেন।

জমি বিনিময়ের বিষয়টি মৌখিকভাবে হলেও কোনো লিখিত দলিল হয়নি। এই সুযোগে সুজন সিকদারের চাচা তাদের অজ্ঞাতসারে উক্ত জমি ফুলবাড়ী এলাকার রুহুল কুদ্দুসের কাছে বিক্রি করে দেন।

জমি কেনার পর থেকেই রুহুল কুদ্দুসের ভাইয়েরা ও তাদের সহযোগীরা সুজন সিকদারের পরিবারকে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় চাপ সৃষ্টি করে আসছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ এপ্রিল রাতে বিবাদী মো. মোস্তফা (৬০), হাসেম আলী (৪৫), নুর ইসলাম (৪২), ইন্তাজ (৪০), শহিদুল ইসলাম (৬২), মিঠু (৪৫), বিল্লাল (৪২) সহ আরও ২৫/৩০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনিভাবে সুজন সিকদারের বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে।

হামলাকারীরা প্রথমে পরিবারের সবাইকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বলে। ভয়ে ঘরের ভেতরের লোকজন বের না হলে, বিবাদীরা ঘরের গ্রিল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা ঘরে থাকা সুজন সিকদার, তার বৃদ্ধ পিতা-মাতা এবং স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে জখম করে এবং জোরপূর্বক ঘর থেকে বের করে দেয়।

হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্র ও মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে। এরপর তারা ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং বাড়ির চারপাশ কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে ফেলে। যাওয়ার সময় তারা হুমকি দেয় যে, পরিবারটি পুনরায় বাড়িতে ফিরলে তাদেরকে খুন-জখম করা হবে।

বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারটি পৈত্রিক ভিটা ও বসতবাড়ি হারিয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় দুলাল সিকদার, অশোক সিকদার, স্বপন সিকদার ও অনিতা সিকদারসহ অনেকেই প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে জানেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় ও পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করায় থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী জানান।

এ বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

Share.
Exit mobile version