হিমেল খান
সন্ধ্যার পর দোকানপাট বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা কর্যকর হলেও বাস্তবে তার ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে যশোর শহরে। নির্দেশনা উপেক্ষা করে অনেক ব্যবসায়ি প্রকাশ্যে কিংবা কৌশলে চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের ব্যবসা। শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে সন্ধ্যার পরও কমেনি ক্রেতা বিক্রেতারা উপস্থিত বরং আড়ালে আবডালে জমে উঠছে কেনাবেচা।
শহরের বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকা ঘুওে দেখা যায়, সন্ধ্যার পরও থেমে নেই বেচাকেনা। কোথাও আংশিক শাটার নামিয়ে, কম আলো ব্যবহার এবং বাইরে থেকে বন্ধের আবহ তৈরি করে চালানো হচ্ছে দোকান। এতে একদিকে নির্দেশনা অমান্য হচ্ছে, অন্যদিকে বিষয়টি আড়াল রাখা হচ্ছে।
শনিবার সন্ধ্যার পর শহরের মুজিব সড়কের অধিকাংশ কাপড়ের দোকান খোলা দেখা গেছে। এর মধ্যে ইনফিনিটি নামের প্রতিষ্ঠানে দেখা যায় টিমটিমে আলো জ¦ালিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে বাইরে থেকে বন্ধ মনে হলেও ভেতরে চলেছে বেচাকেনা।
একই চিত্র শহরের বড়বাজার, আরএন রোড, মাইকপট্টি, এমকে রোড এলাকাতেও। মটর পার্টস, শপিংমল, ইলেকট্রনিক্স ও বিভিন্ন প্রসাধনীর দোকানগুলোতে সন্ধ্যার পর ক্রেতাদের আনাগোনা ছিল লক্ষ্যণীয়। অনেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে সীমিত আলো ব্যবহার করে কার্যক্রম চালিয়েছেন, যাতে বাইরে থেকে বিষয়টি সহজে ধরা না পড়ে।
এ বিষয়ে কথা বললে কয়েকজন ব্যবসায়ি দাবি করেন, তারা এখনও সরকারি নির্দেশনার বিষয়ে অবগত নন। তবে স্থানীয়দের মতে, নির্দেশনার বিষয়টি জানা থাকলেও তা মানার আগ্রহ নেই অনেকের মধ্যেই।
এদিকে চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, সরকারি নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। জ¦ালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন জরুরি বলেও তিনি জানান।
তবে বাস্তবায়নে প্রশাসনের কোন দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় নির্দেশনা কার্যকর হচ্ছে না বলেই মনে করছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, তদারকি জোরদার না হলে এ ধরনের অনিয়ম আরো বাড়বে। উল্লেখ্য, জ্বালানি সাশ্রয়ে গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
একই সঙ্গে ব্যাংকিং কার্যক্রমের সময় কমানোর পাশাপাশি দোকানপাট, বিপণিবিতানহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়।
