বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরের চৌগাছা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মো. শাহিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত নিরপরাধ ব্যক্তিদের আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার দুপুরে যশোর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন চৌগাছা পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর মোবারক হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোবারক হোসেন জানান, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি চৌগাছার কুঠিপাড়া মোড়ে দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত হন সাবেক কাউন্সিলর শাহিন। পরবর্তীতে ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ফাহিমা আক্তার মুক্তা বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪ থেকে ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার ১১ জন আসামির মধ্যে ৬ জনই মোবারক হোসেনের ছেলে ও ভাইপো। বাকি ৫ জন প্রতিবেশিও বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও পারিবারিক শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে একটি পরিবারকে ধ্বংস করতে এই মামলা দেয়া হয়েছে।
অভিযোগ করা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে এজহারে এই পরিবারের ২ জনের নাম ছিল। পরে ৭ জন এবং সবশেষে মোট ১১ জনের নামে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
মোবারক হোসেন উল্লেখ করেন, ১৯৯৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তার বড় ভাই বিএনপি নেতা মকবুল হোসেনকে প্রকাশ্যে দিবালোকে হত্যা করেছিল সন্ত্রাসী মমিন। নিহত শাহিন ছিলেন সেই মমিন বাহিনীর প্রধান মমিনের আপন ছোট ভাই। দীর্ঘ ২৭ বছর আগের সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই এখন নিরপরাধ ছেলেদের এই মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
যেহেতু হামলাটি দিনের আলোতে হয়েছে এবং পুলিশ ইতিমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। তাই ফুটেজ বিশ্লেষণ করলেই প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব।
মোবারক হোসেন বলেন, আমরা কোনো হত্যাকাণ্ডের সমর্থন করি না। শাহিন হত্যার সুষ্ঠু বিচার আমরাও চাই। কিন্তু বিচারের নামে যেন কোনো নিরপরাধ মানুষ হয়রানির শিকার না হয়। আমরা চাই প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতায় আসুক এবং নিরপরাধরা মুক্তি পাক।
তিনি এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি অধিকতর ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মোবারক হোসেনের পরিবারের সদস্য মাহমুদা আক্তার, আয়শা আক্তার, সালমা আক্তার, জাহাঙ্গীর হোসেন, রুপালি খাতুন ও মামুন কবির।
