- ক্রেতার ভিড় থাকলে বিক্রি কম
- মেডিকেল টিম কাজ করছে
- হাটের নিরাপত্তা জোরদার
মনিরুজ্জামান মনির
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে যশোরে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। জেলার ১৯টি পশু হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। তবে হাটে ক্রেতার ভিড় থাকলেও বাড়েনি বিক্রি। হাটে ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের গরু ছাগল মিলছে। ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে কোরবানির পশু। হাটে আসা পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় মেডিকেল টিম কাজ করছে। হাটে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় নেয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। ইজারাদারদের পক্ষ থেকে পুরো হাট সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি রয়েছে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী। জাল টাকা শনাক্তে রয়েছে বিশেষ মেশিন।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস তথ্য মতে, যশোর জেলায় ৮ উপজেলায় মোট ১৯ টি পশুহাট বসছে। এসব হাটের মধ্যে সদর উপজেলায় ৫টি। ঝিকরগাছায় ১টি, শার্শায় ১টি, মণিরামপুরে ৩টি, কেশবপুরে ২টি, অভয়নগরে ২ টি, বাঘারপাড়ায় ৪ টি ও চৌগাছায় একটি হাট বসছে। এছাড়াও এ বছর জেলায় কোরবানি উপযোগী পশু রয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৭৪ টি। পশু চাহিদা রয়েছে ৯৫ হাজার ৮১২টি। চাহিদার তুলনায় ১৮ হাজার ৭৬২টি পশু বেশি। গবাদি পশুর মধ্যে ২৯ হাজার ৫’শ ৫৬টি ষাঁড়, ৭’শ ৫৪টি বলদ, ৪ হাজার ৯২৮টি গাভী, ৯৫টি মহিষ, ৭৮ হাজার ৫শ’ ৫৮টি ছাগল এবং ৫শ’ ৮৩টি ভেড়া।
সরেজমিনে যশোরের কয়েকটি হাট ঘুরে দেখা যায়, হাটে রয়েছে ছোট-বড় নানা আকারের গরু-ছাগল। গরুর তুলনায় ক্রেতা কিছুটা কম এমনটাই দাবি বিক্রেতাদের। ক্রেতারা দামাদামি করলেও দামে হচ্ছে না। আবার বিক্রেতাদেরও আশা অনুরুপ দাম না হওয়ায় পশু বিক্রি করতে পারছে না। দেখা যায় আইনশৃংখলা বাহিনী এবং চিকিৎসকেরাও গরুর হাটে তৎপর আছে।
ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান জানান, হাটে ৫টি গরু আনছি। আজ তেমন কোন বিক্রি নেই। গত হাটে ভালো বিক্রি হয়েছিল। দর কষাকষি হলেও কাঙ্খিত দাম মিলছে না। এখন পর্যন্ত একটা গরু বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকায়। এ বছর গরু বেশি, কিন্তু ক্রেতা কম।
ব্যবসায়ী আব্দুর জব্বার জানান, কোন বেচাকিনা নেই। এ বছর গরুর বাজারে খুব চাপ। যা দিয়ে কিনছি তাও বলছে না। ৪টি গরু আনছি। কিন্তু হাট শেষ পর্যায় একটাও বিক্রি করতে পারিনি। একটা গরু এক লাখ ৬০ হাজার বলছে কিন্তু কিনা দাম পেলে ছেড়ে দিব।
গৌতম মন্ডল জানান, গরু কেনা এক লাখ ৯৫ হাজার টাকায়। অথচ ক্রেতা দাম বলছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তাহলে আমরা কিভাবে ব্যবসা করবো। তবে আশা করি ঈদের আগে দু’হাট ভালো বিক্রি হবে।
ক্রেতা রবিউল ইসলাম জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও আমরা কয়েকজন মিলে কোরবানি দিবো। আসলে কোরবানির ঈদ তো কোরবানি নিয়ে আনন্দ হয়। তবে আজকের হাটে ভালোই গরু উঠছে। এ বছর দামও তুলনামূলক কম মনে হচ্ছে। তারপরেও দেখছি পছন্দ হলেই গরু কেনার ইচ্ছা আছে।
ক্রেতা মিজানুর রহমান জানান, আমি যশোর শহর থেকে আসছি। হাট দেখছি গরুর পরিমাণ অনেক বেশি। মনে হচ্ছে দামও কম। তাই ঘুরে ঘুরে দেখছি। আরো কয়েকটি হাট পাওয়া যাবে তো তাই তেমন কোন চিন্তা নেই। হাটে প্রচুর গরু এসেছে।
খাজুরা পশুহাট ইজারাদার রবিউল ইসলাম জানান, হাট জমজমাট পরিবেশ তৈরি হলেও বেচাকেনা কম। ক্রেতা থাকলেও তেমন বেচাকিনা নেই। আশা করি বিক্রি আরও বাড়বে। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি।
জেলা প্রণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হক জানিয়েছেন, যশোরে কোরবানিতে চাহিদার তুলনায় ১৮ হাজার পশুর উৎপাদন বেশি। ফলে এবছর পশুর সংকট হবে না। জেলার চাহিদা পূরণ করে অন্য জেলায় সরবরাহ হবে। আমাদের সমস্য হচ্ছে দাম কম হলে ক্রেতা খুশি, আবার দাম বেশি হলে বিক্রেতারা খুশি। তবে আমাদের লক্ষ্য যাতে খামারিরা কোনভাবে না ঠকে। ইতিমধ্যে ১৯ টি হাটে ২০ টি মেডিকেল টিম রয়েছে।
শিরোনাম:
- যশোর সীমান্তে ৭ লাখ ৯৮ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ
- দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় নিশ্চিত করতে শার্শা ও বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ কঠোর অবস্থানে
- ছাত্রদল নেতাকে ছুরিকাঘাতের প্রতিবাদে সিটি কলেজে বিক্ষোভ
- খেজুর গুড়ে দেড়শ কোটি বাণিজ্য
- যশোরের কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার
- ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ সফল করতে জামায়াতের প্রস্তুতি সভা
- ঢাকা-রিয়াদ ফ্লাইট জট: সৌদি সংকটে চাপে প্রবাসী কর্মসংস্থান
- যশোরে আগাম শিম চাষে ব্যস্ত কৃষক
