বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির ২ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলায় বাল্যবিয়ের আয়োজন চলাকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বর-কনেসহ তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় কৌশলে পালিয়ে যান বিয়ের আয়োজক আইনজীবী মিজানুর রহমান। সোমবার বেলা ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর তার এক বন্ধুকে নিয়ে উকিল বারে আসে। সেখানে স্কুল ড্রেস পরা ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে কনে হিসেবে আনা হয়। জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রায় এক বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, আইনজীবী মিজানুর রহমান ওই বিয়ের সকল আয়োজন সম্পন্ন করেন। বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পরপরই ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমীদ হাসান ঘটনাস্থলে অভিযান চালান। আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত আইনজীবী ও কাজী দ্রুত সটকে পড়েন। পরে বর, কনে ও বরের বন্ধুকে আটক করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরবর্তীতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমীদ হাসান উভয় পরিবারের সদস্যদের তলব করেন। শুনানি শেষে আদালত নির্দেশ দেন, ছেলের বয়স ২১ বছর এবং মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তারা নিজ নিজ পরিবারের জিম্মায় থাকবে। এ মর্মে মুচলেকা নিয়ে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমানসহ কয়েকজন চিহ্নিত আইনজীবী দীর্ঘদিন ধরে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এ ধরনের বাল্যবিয়ে সম্পন্ন করে আসছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আইনজীবী মিজানুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
