বাংলার ভোর প্রতিবেদক
গান গেয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের ধানের শীষের ভোট চাইলেন শিল্পী সোহরাব মিয়া। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের পক্ষে গানে গানে দেয়াড়া ইউনিয়নবাসীর কাছে ভোট চান তিনি। শনিবার এড়েন্দা বাজারে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নির্বাচনী সভায় শিল্পী সোহরাব মিয়া তার গানের মাধ্যমে যশোর তথা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম জনপদের উন্নয়নের কারিগর খ্যাত তরিকুল ইসলামের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও তুলে ধরেন।
একই সাথে তিনি আগামী দিনে জনগণের জন্য তারেক রহমানের কর্ম পরিকল্পনাও তার গানের মাধ্যমে তুলে ধরেন।
শিল্পী সোহরাব মিয়ার গানে মুদ্ধ ইউনিয়নবাসী দুই হাত উঁচিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের ধানের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন।
অবহেলিত উন্নয়নবাসী উন্নয়নের স্বার্থে আবার সর্বোচ্চ ভোটে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। তাদের দাবি তরিকুল ইসলামের হাতে তৈরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তা ঘাট, ব্রিজ কালভার্ট দীর্ঘ ১৭ বছর সংস্কারের অভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পুনরায় সেগুলো ব্যবহারের উপযোগী করতে পিতা তরিকুল ইসলামের পর এবার ছেলে অনিন্দ্য ইসলামের ধানের শীষে আস্থা রাখতে চান সকলে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত শনিবার দিনভোর দেয়াড়া ইউনিয়নে পথে পথে মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বিভিন্ন স্থানে সভায় বক্তব্য রাখেন এবং ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। দেয়াড়া ইউনিয়নে তার আসার সংবাদ পেয়ে আগে থেকে হিন্দা মুসলিম নারী পুরুষ সকলেই রাস্তার ধাওে দাঁড়িয়ে ফুল ছিটিয়ে বরণ করেন। প্রথমে তিনি এড়েন্দা বাজারে গণসংযোগ করেন। সেখানে দেয়াড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনসহ প্রয়াত সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত করা হয়।
দেয়াড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি যশোর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আসাদুজ্জামান শাহীন বলেন, এই ইউনিয়নে দুটি কলেজ রয়েছে। দুটি কলেজই তরিকুল ইসলামের হাতে তৈরি। আমার ইউনিয়নে ১৯ টি গ্রামে ২১ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চারটি মাদ্রাসা রয়েছে। সবগুলো প্রতিষ্ঠান তৈরি কিংবা নতুন ভবন নির্মাণ হয়েছে তরিকুল ইসলামের হাতে। তিনি অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করেন। তার তৈরিকৃত অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন গুলো দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
দেয়াড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মিঠু বলেন, তরিকুল ইসলাম আমার ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তার পাকা করণের কাজ করেন। তিনি অনেক সোলিং রাস্তার পাশাপাশি কাঁচা রাস্তা করেন। তার তৈরিকৃত রাস্তা কেবল সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তরিকুল ইসলাম ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছিলেন। এলাকার উন্নয়নের প্রয়োজনে ইউনিয়নবাসী আবার ধানের শীষে আস্থা রাখতে চাই।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিজয়ী হলে দেয়াড়া ইউনিয়নবাসীর আস্থার প্রতিদান দেয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের আস্থার প্রতিদান দেয় কাজের মাধ্যমে। বিগত দিনে দেয়াড়া ইউনিয়নবাসী যতবারই ধানের শীষে রেখেছে, ততবারই উন্নয়নের মাধ্যমে তার প্রতিদান পেয়েছে। আমার প্রয়াত তরিকুল ইসলামের হাতে তৈরি এই ইউনিয়নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তা ঘাটের নতুন করে উন্নয়ন করতে চাই। বিগত দিন কথিত জনপ্রতিনিধিরা মানুষের ভোট ছাড়াই জনপ্রতিনিধি সেজে মানুষের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছিল। আমি জনপ্রতিনিধি সেজে থাকতে চাই না, মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। এলাকার উন্নয়ন, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ মুক্ত করা আমার রাজনৈতিক অঙ্গীকার। আমি সুযোগ পেলে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে চাই। প্রতিশোধ প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, ভালোবাসা দিয়ে মানুষের হৃদয় জয় করতে চাই।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আমদাবাদ, ফরিদপুর, মঠবাড়ি, চান্দুটিয়া কামারবাড়ি মোড়, রাজবংশীপাড়া, আরিজপুর বাজার, শীতল মোড়, হালসা, নারাঙ্গালী, ডুমদিয়া, দূর্গাপুর, তেঘরিয়া এলাকায় নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য রাখেন এবং গণসংযোগ করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল হক, সদর উপজেলা বিএনপি নেতা ইদ্রিস আলী, সদর উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি হাসিনা ইউসুফ, দেয়াড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান লিটন প্রমুখ।
এদিকে যশোর শহরের পূর্ব বারান্দীপাড়ায় ধানের শীষের পক্ষে একটি গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। এলাকাবাসীর মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাজেদা বেগম, সাহবুল, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা, ইসমাইল হোসেন প্রমুখ।

