বাংলার ভোর প্রতিবেদক  

যশোরে দুটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর কর্মীদের উপর হামলা ও ব্যানার, ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার যশোরের ঝিকরগাছা ও সদর উপজেলায় ঘটনা দুটি ঘটে। পৃথক দুটি ঘটনায় জেলা ও সহকারী রির্টানিং অফিসারের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন প্রার্থীরা।  দুটি ঘটনায় তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রির্টানিং অফিসার।

ঝিকরগাছায় যুবদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠে। রোববার দুপুরে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড কীর্তিপুর গ্রামে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাইতে গেলে হামলা করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। উপজেলা জামায়াতের মহিলা নেত্রী শিখা খাতুন বলেন, পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রামে আমাদের মহিলা কর্মী রাফিজা, নাসিমা, কামরুন্নাহার, তুলি, বিলকিস, জোসনাসহ ১০ জনের একটি নারী টিম ১০দলীয় জোট মনোনীত সংসদ পদপ্রার্থী ডাক্তার মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের পক্ষে ভোট চাইতে যান। এ সময় উপজেলা যুবদলের সভাপতি আরাফাত রহমান কল্লোলের নেতৃত্বে, সবুজ, আহনাত, সোহাগসহ ১৫/২০ জনের একটি দল আমাদের কর্মীদের মেরে আহত করে। নারীদের শ্লীলতাহানি ও লাঞ্ছিত করে।

আহত নারী নেত্রী জোসনা ও কামরুন্নাহার চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছের। জোসনার মোবাইল ভাঙচুর করে নিয়ে যাওয়াসহ কামরুননাহারের কাছে থাকা ভেনেটি ব্যাগও তারা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। ব্যাগে নগদ টাকাসহ মূল্যবান জিনিস ছিল। আমরা এ হামলার তীব্র প্রতিবাদ করছি ও জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি করছি।

হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডাক্তার মুসলেউদ্দিন ফরিদ। তিনি জানান, এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে একটি দল। তারা ভোটারদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা সৃষ্টি করছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা যুবদলের সভাপতি আরাফাত রহমান কল্লোল। তিনি বলেন, জামায়াতের নারী কর্মীরা আমাদের বাড়িতে ভোট চাইতে গিয়েছিলেন। নিজেদের বাড়িতে প্রার্থী আছে উল্লেখ করে আমার মা তাদের চলে যেতে বলেন। উল্লেখ্য, যশোর-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাবিরা নাজমুল মুন্নির চাচাতো দেবর যুবদল নেতা কল্লোল। এ বিষয়ে ঝিকরগাছার সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রনি খাতুন বলেন, উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে আমাকে ফোন করে জানানো হয়। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে, যশোর-৩ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনিত প্রার্থী আব্দুল কাদেরের  ব্যানার, ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুরে প্রেস ক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুল। তিনি বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলে আমাদের দলের মহিলা কর্মীদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে এবং নির্বাচনী পরিবেশকে বিঘ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে যশোর-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল কাদের বলেন, যশোরে বর্তমানে কিছু সন্ত্রাসী অবৈধ অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে। তারা আগে ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দলের সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হিসেবে কাজ করত, এখন অন্য একটি রাজনৈতিক সংগঠনের ছত্রছায়ায় থেকে একই ধরনের কার্যক্রম চালাচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে উল্লেখ করে আব্দুল কাদের বলেন, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়া হলে এর প্রভাব নির্বাচনের মাঠে পড়বে।’ যশোরের জেলা প্রশাসক ও রিটানিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Share.
Exit mobile version