বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের খুলনা বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তি জনগণ কিংবা সংসদকে অবহিত না করেই গোপনে করা হয়েছে-যা সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার সরাসরি লঙ্ঘন।

এছাড়াও এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে। রাশিয়া-চীনসহ বিভিন্ন দেশের সাথে বাণিজ্য করার ক্ষেত্রে মার্কিন মুখাপেক্ষি হয়ে থাকতে হবে, মার্কিনীদের কাছ থেকে চড়া মূল্যে সামরিক সরঞ্জামাদি কিনতে হবে। এরই মধ্যে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বোয়িং কোম্পানির ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে। বাড়তি দাম দিয়ে ৫৭ হাজার মেট্রিক টন গম কেনা হয়েছে। বাড়তি দামে মার্কিন পণ্য কেনা হবে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত অসম বাণিজ্য চুক্তিসহ জাতীয় স্বার্থ-বিরোধী সকল বৈদেশিক চুক্তি বাতিল এবং ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা, ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যা ও সারা বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন-যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে এই বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের খুলনা বিভাগীয় এই প্রতিনিধি সভার আয়োজন করা হয়।

জোটের নেতা ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) যশোর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত এই অসম বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের স্বাধীন বাণিজ্যনীতি, কর-সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় ক্রয়নীতিকে মার্কিন কর্পোরেট স্বার্থের কাছে বিকিয়ে দেয়ার শামিল।

এ ধরনের চুক্তির ফলে দেশীয় শিল্প ও কৃষিখাত ধ্বংস হবে, শ্রমিকের মজুরি ও অধিকার সংকুচিত হবে, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে এবং রাষ্ট্রের বিনিয়োগ-সিদ্ধান্তে বিদেশি কোম্পানির কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পসহ রপ্তানিমুখী খাতগুলো মার্কিন বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে এবং দেশীয় বিনিয়োগকারীরা বিদেশি কর্পোরেট সংস্থার কাছে কোণঠাসা হয়ে পড়বে। নেতৃবৃন্দ দেশবাসীকে জাতীয় স্বার্থ-বিরোধী চুক্তি বাতিলের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং রাজপথে গণসংগ্রাম গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, অধ্যাপক ইউনূসের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও তারেক রহমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী এই গোলামীর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে অধ্যাপক ইউনূস, তারেক রহমান, শফিকুর রহমানের যোগসাজশে। ফলে তাদের এই অনৈতিক যোগসাজশের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্য এখনকার প্রধান দাবি।

প্রতিনিধি সভার শুরুতে প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-র সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফি রতন। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, বাসদ কেন্দ্রীয় সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য জনার্দন দত্ত নান্টু, সাম্যবাদী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় পাঠচক্র সদস্য ওবায়দুল্লাহ মুসা, জাতীয় গণফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মাকসুদ আহমেদ মনি প্রমুখ।

খুলনা বিভাগের প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ যশোর জেলা কমিটির সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সদস্য তসলিম উর রহমান, সিপিবি খুলনা জেলার সভাপতি এ এস এ রশিদ, বাগেরহাট জেলার বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য তুষার কান্তি দাস, কুষ্টিয়া জেলা বাসদের আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় সদস্য শফিউর রহমান শফি, ঝিনাইদহ জেলা জাতীয় গণফ্রন্টের সমন্বয়ক নেহানউদ্দিন আহমেদ সোহেল, মাগুরা জেলা বাসদের সমন্বয়ক ইঞ্জিনিয়ার শম্পা বসু, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী পরিষদ যশোর জেলার আয়বায়ক হারুন অর রশিদ, সাতক্ষীরা জেলা বাংলাদেশ জাসদের অন্যতম নেতা ইদ্রিস আলী, নড়াইল জেলা সিপিপির অন্যতম নেতা সঞ্জিত রাজবংশী প্রমুখ। প্রতিনিধি সভা শেষে বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাব থেকে বেরিয়ে শহরের বিভন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

Share.
Exit mobile version