রামপাল (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
তীব্র লবণাক্ততার কারণে যেখানে অনেক কৃষক চাষাবাদে নিরুৎসাহিত হন, সেখানে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে জিরা চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন মোফাজ্জল হোসেন বাবু। তিনি রামপাল উপজেলার ১নং গৌরম্ভা ইউনিয়নের আদাঘাট গ্রামে সন্তান। স্বউদ্যোগে পরীক্ষামূলকভাবে জিরা চাষ করে এলাকায় নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত খুলে দিয়েছেন।

জানা গেছে, স্থানীয় ইউপি সদস্য মোফাজ্জল হোসেন বাবু প্রায় ৫২ শতাংশ জমিতে জিরা চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে তিনি প্রায় ২০০ কেজি জিরা উৎপাদনের আশা করছেন। শুরুতে তিনি পরীক্ষামূলকভাবে মাত্র ১০০ গ্রাম জিরা বীজ দিয়ে চাষ শুরু করেন। বর্তমানে সেই উদ্যোগ সফলতার দিকে এগোচ্ছে বলে তিনি জানান।

স্থানীয়দের মতে, রামপাল উপজেলাতে এই প্রথম কেউ জিরা চাষ শুরু করলেন। আগে এ এলাকায় কেউ জিরা চাষ করেননি বলে জানা গেছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
জিরা চাষি মোফাজ্জল হোসেন বাবু বলেন, রামপালের মাটি লবণাক্ত হওয়ায় অনেকেই নতুন ফসল চাষে আগ্রহ দেখান না। তাছাড়া মশলা জাতীয় ফসল চাষই হয় না, কিন্তু আমি পরীক্ষামূলকভাবে জিরা চাষ শুরু করেছি। যদি ভালো ফলন হয়, তাহলে আগামীতে আরও বড় পরিসরে জিরা চাষ করবো।

তিনি বলেন, আমি উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ পেয়েছি কিন্তু কোন আর্থিক সহায়তা পাইনি। যদি সরকারের সহযোগিতা পেতাম, তাহলে আরও বেশি জমিতে জিরা চাষ করতে পারতাম।

এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ইনসাদ ইবনে আমীন জানান, এলাকায় নতুন ফসল চাষের উদ্যোগকে কৃষি বিভাগ সবসময় উৎসাহিত করে। জিরা চাষ নতুন উদ্যোগ। আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করবো।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, লবণাক্ত অঞ্চলে বিকল্প ফসল হিসেবে জিরা চাষ সফল হলে এলাকার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে। এতে করে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।

Share.
Exit mobile version