বাংলার ভোর প্রতিবেদক
এবার ঈদে যশোরে লিবার্টি সু কোম্পানির প্রতারণা শিকার হয়েছেন বহু মানুষ। কোম্পনির সেলসম্যানদের প্রতারণার শিকার হয়ে জুতা কিনে ঠকে মানুষ এখন হায় হায় করছেন। এবার ঈদে লিবার্টিসহ স্থানীয় কোম্পানিগুলো পুরানো ও ব্যবহার অনুপযোগি জুতা স্যান্ডেল বেশি দামে বিক্রি করে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বুধবার অনেক ক্রেতা জুতা চেঞ্জ করতে এসে তাদের প্রতারণা বুঝতে পারে।

যশোর পালবাড়ি মোড়ের বাসিন্দা রিংকু মিয়া ঈদের আগের দিন লিবার্টি সু কোম্পানি থেকে ৯৮০ টাকা দিয়ে একটি চামড়ার স্যান্ডেল কেনেন। সে সময় স্যান্ডেলটি তার পায়ে ঠিকঠাক মত পায়ে ঢুকছিলো না। এমন সময় কোম্পানির সেলসম্যানরা জানান, কয়েক দিন পায়ে দেয়ার পর ছেড়ে (ঢিলা হয়ে যাবে) দিবে।

স্যান্ডেলটি ঈদের দিন নামাজ পড়তে যাবার সময় পায়ে দিয়ে ঈদগাহ মাঠে যান তিনি। কিন্তু স্যান্ডেলটি তার পা থেকে বার বার বের হয়ে আসছিলো। নামাজ শেষে বাড়ি গিয়ে স্যান্ডেলটি খুলে রাখেন। বুধবার স্যান্ডেলটি তিনি চেঞ্জ করতে লিবার্টি সু কোম্পানিতে যান।

এমন সময় কোম্পনির সেলসম্যানরা জানিয়ে দেন, বিক্রি জিনিস ফেরত দেয়া হয় না। চেঞ্জ করারও কোন নিয়ম নেই। শুধু রিংকু মিয়া নন, বুধবার এমন বেশ কয়েকজনকে জুতা-স্যান্ডেল চেঞ্জ করতে আসলে তাদের সকলের সাথে দুর্ব্যবহার করতে দেখা গেছে প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারীদের।

কোম্পানির শো-রুমের সামনে কথা হয় নুরুল ইসলাম নামে এক ক্রেতার সাথে। তিনি জানান, লিবার্টির জুতা কিনে প্রতারিত হওয়া ক্রেতার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে দাম বাড়ালেও, মান কমছে লিবার্টির পণ্যের। এতে জুতা কিনে নিয়মিত ঠকছেন ক্রেতারা। দুই/একটির প্রতিকার হলেও অধিকাংশ অভিযোগেরই কোনো সুরাহা মেলে না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দাম দিয়ে জুতা কিনে বেশিদিন ব্যবহার করতে পারেন না। কয়েকদিন যেতে না যেতেই জুতার সোল ভেঙে যায়, ফেটে যায় বা ছিঁড়ে যায়। তারা গ্যারান্টি দিলেও মেয়াদের আগে ফেরত দিতে গেলেও নেয়া হয় না।

আসিফ আকবার নামে এক ব্যক্তি জানান, লিবার্টি জুতা কেনার সময় গ্যারান্টি দিলেও পরবর্তীতে সেটা পরিবর্তন করতে গেলে জুতার সাইজ নেই, অন্য শো-রুম থেকে আনতে হবে, সঙ্গে সঙ্গে কেন অভিযোগ দেইনি, এসব অজুহাত দেখাতে শুরু করেন লিবার্টির কর্মচারিরা।

প্রতারণা সম্পর্কে জানতে চাইলে কোম্পানির মালিক মফিদুল হক রাজু বলেন, আমাদের এখানে পরিবর্তন কিম্বা চেঞ্জ করার কোন সুযোগ নেই। ঈদের সময় বেশি বিক্রি হবার কারণে সেলসম্যানরাও বেশি ব্যস্ত ছিলো। কাস্টমারের সাথে কে কিভাবে কথা বলেছে, তা আমি বলতে পারবো না। আমি এখন যশোরের বাইরে আছি বলে ফোন কেটে দেন।

Share.
Exit mobile version