লোহাগড়া সংবাদদাতা :
নড়াইলে লোহাগড়ায় অবিরাম বর্ষণ আর দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় বিভিন্ন বিলে আউশ ধান নষ্ট হয়ে গেছে।পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ আটকে অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘের তৈরি এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খাল-নালা ভরাট হয়ে এই বিপর্যয় ঘটেছে। একারনে শত শত কৃষক চরম লোকসানের আশংকায় রয়েছে।
রোববার লোহাগড়া কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। স্থানীয় জাতের ‘রাতুল আউশ’ চাষের জন্য এ সকল বিল অত্যন্ত উপযোগী। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ ধানের গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে। বিগত বছর গুলোতে সহনীয় বৃষ্টিপাতের কারণে রাতুল ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।
কৃষক মফিজুর রহমান জানান, জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে শুরু থেকে টানা বৃষ্টিতে বিলের নিচু জমিগুলো হঠাৎ জলমগ্ন হয়ে পড়ে। অপরিকল্পিত মাছের ঘেরের কারণে পানি সরার পথ অবরুদ্ধ থাকায় দীর্ঘদিন ধান গাছগুলো পানির নিচে তলিয়ে থাকে এবং একপর্যায়ে পচে নষ্ট হয়ে গেছে একারনে কৃষকদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
মরিচপাশা গ্রামের কৃষক মিলু জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে অবিলম্বে অপরিকল্পিত ঘের অপসারণ করে অবরদ্ধ খাল-নালা পুনরুদ্ধার এবং নদীর সঙ্গে সংযোগ খালগুলো পুনঃখনন করা জরুরি।
লোহাগড়া উপজেলা কৃষি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুনমুন সাহা বলেন,অধিকাংশ বিলের উপরিভাগের ধান রক্ষা পেলেও নিচু এলাকার সিংহভাগ ফসলই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে কৃষি বিভাগ সরকারের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করছে।

