বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
দীর্ঘদিন ধরে যশোর শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়ির ছাদ ও বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে বিদ্যুৎ ও এসির তার, পাইপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে একদিকে যশোর শহরবাসী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। ধারাবাহিক এসব চুরির ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
প্রায় দুই মাস আগে প্রেসক্লাব যশোরের ছাদ থেকে একটি পত্রিকা অফিসের রুমের এসির তার চুরি হয়। একই দিন ওই ছাদ থেকে আরও দুই সাংবাদিকের এসির তার চুরি হওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানানো হলে কোতোয়ালি থানার তৎকালীন ওসি ও একজন এসআই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। তবে এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
কিছুদিন আগে সার্কিট হাউস সংলগ্ন বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও সাংবাদিক বেনজীন খানের বাড়ির বিদ্যুতের সার্ভিস লাইন চুরি হয়। পরে তিনি চোর হিসেবে একজনকে শনাক্ত করার পর ওই ব্যক্তি তার বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং তার ওপর হামলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেয়ার পর রাতে পুলিশ তার বাড়ির সামনে পাহারায় ছিল। পরে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে আটক করে বলে জানা গেছে।
সর্বশেষ গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি ও যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর বাড়ির বিদ্যুতের সার্ভিস তার চুরির ঘটনা ঘটে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও পরিচিত ব্যক্তিদের বাড়িতেও এমন চুরির ঘটনা ঘটায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তবে এসব ঘটনা শুধু পরিচিত বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বাড়িতেই সীমাবদ্ধ নয়। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের বাসাবাড়িতেও নিয়মিত বিদ্যুৎ ও এসির তার, পাইপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরির অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অনেককেই চুরি যাওয়া তার বা পাইপ পুনরায় লাগাতে গিয়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নতুন করে তার বা এসির পাইপ লাগানোর পরও আবার চুরির ঘটনা ঘটছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটলেও চোর চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ও ধারাবাহিক অভিযান না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। তাদের দাবি, এসব চুরি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এর সঙ্গে সংঘবদ্ধ একটি চক্র জড়িত থাকতে পারে।
শহরবাসীর প্রশ্ন, শহরের বিভিন্ন স্থানে চুরি হওয়া তামার তার ও এসির পাইপ কোথায় বিক্রি হচ্ছে, কারা এসব চোরাই মালামাল কিনছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, পুলিশ তদন্ত করে তা শনাক্ত করবে কি না।
এখন জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির বাড়িতে চুরির ঘটনার পর পুলিশ কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন শহরবাসী। তাদের প্রত্যাশা, ধারাবাহিক চুরির ঘটনাগুলো তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি চোরাই মালামাল কেনাবেচার স্থানগুলোতেও নজরদারি বাড়ানো হবে।
তবে এ প্রসঙ্গে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত কাজী বাবুল হোসেন বলেন, চোরদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে অনেককে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এবং এদের আটকের বিষয় অব্যাহত অভিযান চলছে।
