বাংলার ভোর ডেস্ক
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর এ নিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাতের পর এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের।
এদিকে, ইরানের প্রাতমিক বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় এ পর্যন্ত ৫১ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া ইরানী সরকারি সংস্থা মধ্যপ্রাচ্যের চারটি দেশে প্রতিরোধমূলক হামলার কথা জানিয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ ইরানের ওপর হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে বলেন, শান্তির দূত আবারও তার আসল চেহারা দেখিয়েছে। ইরানের সঙ্গে সব আলোচনা ছিল একটি আড়াল মাত্র। এ নিয়ে কারও কোনো সন্দেহ ছিল না। বাস্তবে কেউ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়নি।’
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তথাকথিত একতরফা সামরিক পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তিনি বলেন, এটি উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে এবং একটি আরও অনিশ্চিত ও প্রতিকূল বিশ্ব ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন মনে করিয়ে দেন যে ইউরোপীয়নরা ইতোমধ্যে ইরানের ‘হত্যাকারী’ শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
তিনি বলেন, আমরা সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানাই। বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে এবং আন্তর্জাতিক আইন সম্পূর্ণভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান।
প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিও। তিনি ইরানের বেসামরিক জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। তিনি উত্তেজনা কমাতে মিত্র ও আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিস বলেন, তার দেশ সকল প্রকার নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামে ইরানের সাহসী জনগণের পাশে আছে। ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র সমৃদ্ধ করতে না পারে সেই প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থনের কথাও জানান তিনি।
ইরানে বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় নিহত ৮৫
ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাবে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া এ হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৬০ জন।
শনিবার স্থানীয় সময় সকালে ইরানের বিভিন্ন জায়গায় আকস্মিক হামলা চালায় ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র।
হামলায় সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, একাধিক মন্ত্রী ও সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের টার্গেট করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলা চালায় তারা।
মিনাব শহরের সরকারি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেদমেহের বলেছেন, ইসরায়েল স্কুলটিতে সরাসরি হামলা চালিয়েছে। হামলার সময় সেখানে ১৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ছিল। সেখানে এখনো উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় নিহতের সংখ্যা আর বাড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
কয়েক মাস ধরে পরিচকল্পনা করার পর শনিবার সকালে ইরানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এ হামলা একদিনে থামার কোনো সম্ভাবনা নেই।
মধ্যপ্রাচ্যের ৪ দেশে হামলা ইরানের
বাহরাইন, আবুধাবি, কাতার ও সৌদি আরবে হামলার কথা স্বীকার করেছে ইরান। শনিবার এক বিবৃতিতে ইরান রেভ্যুলেশনারি গার্ড (আইআরজিসি) বলেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত থাকবে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। এসব এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের বিকট শব্দ পাওয়া গেছে।
এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও বিস্ফোরণ ঘটেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশগুলোতে যুগপৎভাবে বিস্ফোরণের এসব ঘটনায় পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, বাহরাইনের জাফায়ার এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের পর আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। এখানে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি রয়েছে। এর আগে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়ার নির্দেশ দেয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতেও একটি বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। তবে এর উৎস বা ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।
আল জাজিরা জানায়, কুয়েতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর পরপরই দেশজুড়ে সতর্কতা সাইরেন বাজানো শুরু হয়।
কাতারের দোহায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর আগে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছিল, ইরান থেকে ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

