মেহেরপুর সংবাদদাতা
মেহেরপুর সদর উপজেলায় বিলে শাপলা তুলতে গিয়ে চার স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উপজেলার মোমিনপুর বিলে এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার শামীম হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলো- অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা, চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী রাফিয়া, একই শ্রেণির আলিয়া এবং অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম। তারা সবাই আপন চাচাতো বোন। তাদের পিতা মজিবর রহমান ও শাহারুল ইসলাম সহদর।
স্থানীয়রা জানায়, দুপুরে চারজন একসঙ্গে মসুরিভাজা বিলে শাপলা তুলতে যায়। দীর্ঘ সময়েও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পরে সন্ধ্যার আগে ভাসমান অবস্থায় তাদের মরদেহ দেখতে পায় এলাকাবাসী। খবর পেয়ে মেহেরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। এ ঘটনার পর গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
মেহেরপুর ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের টিম লিডার শামিম হোসেন জানান, শাপলা ফুল তুলতে গিয়ে চারজন বিলে ডুবে যায়। স্থানীয়রা তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। একজনকে খুঁজে না পেলে আমাদের খবর দিলে আমরা ঘটনাস্থলে পৌছে বিলের একটি গর্তের মধ্যে থেকে বাকি জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বারাদি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রেজাউল ইসলাম বলেন, দুপুর দেড়টার দিকে চারজন মশুরিভাজা বিলে শাপলা ফুল তুলতে যায়। ফুল তুলতে গিয়ে তারা একটি গর্তে পড়ে নিখোঁজ হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।
মেহেরপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মেছবাহ উদ্দিন বলেন, নিহত চারজনের কেউ সাঁতার জানতো না। বিলে একেক যায়গায় একেক রকম গভীরতা। যে কারণে তারা বুঝতে না পেরে বিলে তলিয়ে যায়। পরে তাদের খোঁজাখুজির পর স্থানীয়রা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যা মরদেহ উদ্ধার করে।
মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সুমাইয়া জাহান ঝুকাসহ প্রশাসনের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে নিহতদের দাফনের জন্য মরদেহ প্রতি ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
