বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া, অভয়নগন ও বসুন্দিয়া) সংসদীয় আসনের নির্বাচনী মাঠে শেষ মুহূর্তে নাটকীয় মোড় নিয়েছে।
নির্ধারিত সময়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারায় নির্বাচন থেকে কার্যত ছিটকে পড়া গণধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম গাজী অবশেষে উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপে পুনরায় নির্বাচনী দৌঁড়ে ফিরেছেন।
গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে তিনি তা জমা দিতে ব্যর্থ হন। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় তিনি উচ্চ আদালতের স্মরণাপন্ন হন। শুনানি শেষে আদালত তার মনোনয়নপত্র গ্রহণের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে আদেশ প্রদান করেন।
উচ্চ আদালতের সেই আদেশ কার্যকর করে বুধবার দুপুর ২টার দিকে আবুল কালাম গাজী যশোর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। আদালতের আদেশের অনুলিপি সংযুক্ত করে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
মনোনয়নপত্র দাখিলকে কেন্দ্র করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় এলাকায় গণধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, যশোর -৪ আসনের প্রার্থী আবুল কালাম গাজী, গণঅধিকার পরিষদের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক ইকবাল, বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক শাহাবুদ্দীন শান্ত, গণঅধিকার পরিষদ যশোর জেলা শাখার অর্থ সম্পাদক রাশেদুর রহমান নিউটন, আইন সম্পাদক জুলফিকার আলি, শ্রমিক অধিকার পরিষদের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কবিতা খাতুন, শ্রমিক অধিকার পরিষদ যশোর জেলা সভাপতি হুমায়ুন কবির মুরাদ, সাধারণ সম্পাদক মুরাদ হোসেন প্রমুখ।
নেতাকর্মীরা এ ঘটনাকে আইনের শাসনের বিজয় এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সমান সুযোগ নিশ্চিতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উচ্চ আদালতের এই আদেশ শুধু একজন প্রার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেনি, বরং পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আইনি অধিকার ও ন্যায়বিচারের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে। শেষ মুহূর্তে আবুল কালাম গাজীর অন্তর্ভুক্তি যশোর-৪ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।
এদিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সব আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে।

