কেশবপুর সংবাদদাতা
যশোরের কেশবপুরে সন্তানের স্বীকৃতি চাওয়ায় তসলিমা বেগম নামে এক নারীকে বেধড়ক মারপিট করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সোহাগ হোসেনকে গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
বুধবার সকালে হাসানপুর বাজারের প্রাণকেন্দ্র চৌরাস্তার মোড়ে এলাকাবাসী আয়োজিত মানববন্ধনে বাজারের অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ীসহ শতাধিক নারী পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় অসহায় নারী তসলিমা বেগম ও তার ছয় মাসের শিশুকন্যা রোজা খাতুনের উপর হামলাকারী দুশ্চরিত্র, লম্পট ও বখাটে সোহাগ হোসেনের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানান ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অভিযুক্ত সোহাগ হোসেন হাসানপুর বাজারে কম্পিউটার মেকানিকের কাজ করে। বিগত বছরগুলোতে তার বিরুদ্ধে নানান অভিযোগে একাধিকবার সালিশও হয়েছে। এ সময় তারা দুশ্চরিত্র ও লম্পট সোহাগের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে সোহাগ হোসেন তসলিমার বাড়িতে আসা যাওয়ার একপর্যায়ে শারীরিক মেলামেশা করেন। এতে তসলিমা গর্ভবতী হয়ে পড়েন। পরে বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকেই সোহাগ বাচ্চাটিকে খুন জখম ও প্রাণনাশের বিভিন্ন প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিলো। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৬ আগস্ট দুপুর ১২ টার দিকে সোহাগ হোসেন তসলিমার ভাড়া বাসায় যেয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম করে হত্যার চেষ্টা চালায়। ওই সময় তসলিমার ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে সোহাগ তাকে ও শিশু কন্যাকে খুন জখমের হুমকি প্রদান করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। বর্তমানে আহত ওই নারী সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোহাগ হোসেন মুঠোফোনে বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানিনা, আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। ওই মহিলা আমার বিরুদ্ধে অহেতুক মিথ্যা-বানোয়াট অভিযোগ করছে। আমি তাকে মারপিট করিনি, তবে উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়েছে। ওই সন্তান যদি আমার হয়ে থাকে তাহলে ডিএনএ টেস্ট করে সনাক্ত করা হোক।
এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, তসলিমা বেগমকে মারপিট ঘটনায় সোহাগ হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারের জন্যে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে সন্তানের স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য ওই নারীকে যশোর আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

Share.
Exit mobile version