বাংলার ভোর প্রতিবেদক
সামান্য হলেও সুবাতাস বইতে শুরু করেছে তেঁতে ওঠা সবজির বাজারে।

এতে করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ই। বিক্রেতারা বলছেন সরবরাহ চাহিদা মোতাবেক হলে বাজার স্থিতিশীল থাকে। সরবরাহ কম থাকলেই দাম বেড়ে যায়। অপরদিকে ভোক্তারা বলছেন, এমন অসামান্য কমে সবজির বাজার পেয়ে আমাদের রাজপথে নেমে ঢাক ঢোল পিটিয়ে উল্লাস করা উচিত! যেখানে বোতলজাত এলপিজির দাম অল্পদিনের ব্যবধানে দুই দফায় বাড়ানো হয়েছে সেখানে সবজির দাম দু পাঁচ টাকা কম তামাশা ছাড়া কিছুই না। আবার জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাবার কারণে জীবনযাত্রার ব্যয়ভারে যুক্ত হবে নতুন নতুন সব লাল-নীল যন্ত্রণা।

শুক্রবার সকালে যশোরের হাজী মোহাম্মদ মহসিন রোড বড় বাজারে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে রোজার ঈদের আগে হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ার গরুর মাংস এখনো সেই বাড়িত দামেই বিক্রি হচ্ছে। সেই সাথে সরবরাহ কম অযুহাতে গত দুই সপ্তাহ ধরে বেড়ে চলেছে ডিমের দাম। মাসাধিককাল পেরিয়ে গেলেও এখনো সরবরাহ করা হচ্ছে না বোতলজাত সয়াবিন তেল।

এদিন বাজার ঘুরে দেখা গেছে বর্তমানে মানভেদে বেগুন কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১৩০ টাকা, উচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, শিম ১০০ থেকে ১২০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা, ফুলকপি ১০০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা, ঢেড়স ৩০ থেকে ৫০ টাকা, পটল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কচুরলতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শষা ২০ টাকা, পুঁইশাক ২০ থেকে ৩০ টাকা, মিচুড়ি ১০০ টাকা, মানকচু ৫০ টাকা, ডাটা ৩০ টাকা, ধুন্দল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঝিঙে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচা আম ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচকলা ৫০ টাকা, টমেটো ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বিট ৪০ টাকা, কুমড়ো ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৪০ থেকে ৬০ টাকা, এঁচোড় ৪০ টাকা, লাউশাক ৪০ টাকা, কুশি ৬০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এছাড়া আকারভেদে লাউ ৫০ থেকে ৭০ টাকা, পালং শাক ২০ টাকা, সবুজ শাক ২০ টাকা আঁটি হিসেবে বিক্রি হয়েছে।

আলাপকালে বিক্রেতা দুলাল পাল বলেন, চলতি সপ্তাহে হাটে, আড়তে সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিধায় দাম কিছুটা কমেছে। দাম বেশি থাকলে ক্রেতাকে নানা জবাব দিতে হয়।

শহরের পলিটেকনিক কলেজ রোডের বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আজ বেগুন কিনেছি ১২০ টাকা কেজি। যা গত সপ্তাহে কিনেছি ১৬০ টাকা, পটল ৭০ টাকার স্থলে ৫০ টাকা। দাম কিছুটা কমেছে।

শহরের গুরুদাস বাবুলেন এলাকার বাসিন্দা নাজিম উদ্দীন বলেন, আমরা কেমন আছি জানতে শুধুমাত্র সবজির বাজার দিয়ে যাচাই করা যথেষ্ট নয়। একদিকে সবজির দাম ৫০ টাকা বৃদ্ধি পায়, পরে ১০ টাকা কমায়। অপরদিকে বোতলজাত গ্যাস নিয়ে চলছে তুঘলকি কাণ্ডকারখানা। যে যেমন পারছে লুটে নিচ্ছে। গ্যাস সিলিণ্ডারের পাশাপাশি আবার জ্বালানি তেলের দাম জনজীবনে চরম দুর্ভোগ বয়ে আনবে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে দেড় কেজি সাইজের রুই মাছ ৩২০ টাকা, সাড়ে তিন কেজি সাইজের কাতলা ৪০০ টাকা, পাঙাশ ১৭০ থেকে ২১০ টাকা, কই ২০০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বেলে ৮৫০ টাকা, টেংরা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, শোল ৮০০ টাকা, হরিণা চিংড়ি ৮০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ১০০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।
বিক্রেতা শুভ বিশ্বাস বলেন, গরমের কারণে মাছের সরবরাহ কম। তবে দাম বৃদ্ধি পায়নি।

শহরের চুড়িপট্টির শেখ নাসির উদ্দীন বলেন, আজ মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে। শুক্রবার বা ছুটির দিন হলেই বাজার গরম।
মুদিপণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল ২০৪ থেকে ২০৭ টাকা কেজি, সরিষার তেল ২১০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি, পাম তেল ১৮৪ টাকা কেজি, আটা ৪০ টাকা, ময়দা ৫০ টাকা, মসুরি ডাল ৯০ থেকে ১৫০ টাকা, মুগ ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, ছোলার ডাল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, সাদা চিনি ১০৫ টাকা, এছাড়া আলু ১৮ থেকে ২০ টাকা, পেঁয়াজ ৩৩ থেকে ৩৫ টাকা, রসুন ১০০ টাকা, আদা ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।

মুদিপণ্য বিক্রেতা শ্যামল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শ্যামল কুন্ডু বলেন, বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। তবে ভোজ্যতেল নিয়ে ভাবনায় আছি। বোতলজাত সয়াবিন তেল সব কোম্পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে।

মুরগির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ব্রয়লার ১৭০ টাকা, লেয়ার ৩৭০ টাকা ও সোনালি ২৯০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। তবে কয়েকজন দোকানী সব জাতের মুরগিতে ৩০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি করছেন। জানতে চাইলে এসব দোকানের স্বত্বাধিকারীরা জানান তারা খামারের সেরা মুরগি বেছে এনে বিক্রি করছেন। বিধায় দাম কিছুটা বেশি।
গরু ও খাসির মাংসের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে গরুর মাংস কেজি প্রতি ৮০০ টাকা ও খাসির মাংস ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।

খাসির মাংস ব্যবসায়ী মুন্নু শেখ বলেন, হঠাৎ খাসির মাংসের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। হাটেও সরবরাহ কমেছে। অনেকে আসন্ন কোরবানির জন্য পশু তৈরি করছেন। এজন্য তার হাটে পশু তুলছেন না।

চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে সুপার মিনিকেট কেজি প্রতি ৬৩ টাকা, মিনিকেট ৬১ টাকা, স্বর্ণা ৫৪ টাকা, কাজললতা ৫৬ টাকা, বাসমতী ৮০ থেকে ৮৪ টাকা, নাজিরশাল ৮৪ টাকা, বিলমোটা আমন ৬০ টাকা, আঠাশ ৫৬ টাকা ও সুবললতা ৫০ থেকে ৫৫ টাকা বিক্রি হয়েছে।

চাল বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান মা কালী ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী কালীপদ পাল বলেন, আপাতত চালের বাজার নিয়ে অস্থিরতার কিছু নেই। নতুন ধান উঠলে চালের দাম আরো কিছুটা কমবে।

ডিমের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে লাল ডিম ৪০ টাকা, সাদা ডিম ৩৮ টাকা, হাঁসের ডিম ৫২ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ৭২ টাকা, কোয়েল পাখির ডিম ১২ টাকা হালি বিক্রি হয়েছে।

ডিম বিক্রেতা কমল স্টোরের স্বত্বাধিকারী রজত পাল বলেন, ডিমের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয়ভাবে সে চাহিদা পূরণ না হওয়ায় রাজশাহীর তাহেরপুর, নাটোর, পাবনা থেকে ডিম আনা হচ্ছে।

Share.
Exit mobile version