বাংলার ভোর প্রতিবেদক:
পরিবেশ,বনও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সততার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিহিংসার রাজনীতি প্রশ্রয় দেয়া হবে না। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, নাশকতা কিংবা জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর যশোরে এটি তার প্রথম সফর। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে বস্তুনিষ্ঠ ভাবে কাজ করা হলে সম্মিলিতভাবে যশোরের আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব। প্রতিমন্ত্রী বলেন, তেল-গ্যাসের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
সরকারি বিভিন্ন ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিদ্যুতের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয় ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
সোমবার দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘অমিত্রাক্ষর’ সভাকক্ষে জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আসন্ন পূজাকে ঘিরে নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বিত পরিকল্পনা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। কোথায় কতগুলো মণ্ডপ হচ্ছে এবং কোথায় কী ধরনের নিরাপত্তা প্রয়োজন,তা আগে থেকেই পর্যালোচনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইটভাটা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব ইটভাটা এখনও নিয়মের আওতার বাইরে রয়েছে সেগুলোকে নিয়মের আওতায় আনার বিষয়ে সরকার কাজ করছে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং নিয়ম না মেনে পরিচালিত ইটভাটগুলো বন্ধ করে দেয়ার কথাও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বা নাশকতার কোনো চেষ্টা বরদাশত করা হবে না। জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, নতুন করে অগ্নিসন্ত্রাস কিংবা সামাজিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির কোনো চক্রান্ত হলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে।
যশোরের সার্বিক উন্নয়নে গঠনমূলক ও উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে এগিয়ে আসার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে জেলার উন্নয়ন কার্যক্রমে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিরা সুলতানা মুন্নি।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবির উপাচার্য ড. ইয়ারুল কবীর, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন, সিভিল সার্জন ডাক্তার মাসুদ রানা, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রফিকুল হাসান, চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাম্মী সুলতানা, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেফাউর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হক, চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম, কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ, মণিরামপুরের এসিল্যান্ড মাহির দায়ান আমিন, বাঘারপাড়া এসিল্যান্ড মোহাম্মদ আল ইমরান প্রমুখ। যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুনসহ জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় যশোরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সীমান্ত নিরাপত্তা, উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়। জেলার উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর বক্তারা গুরুত্বারোপ করেন।
এদিন, বিকেলে প্রতিমন্ত্রী বেনাপোল বন্দর পরিদর্শন করেন। পরে কাস্টমস হাউসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন কাস্টমস কমিশনার ফাইজুর রহমান।
সভায় শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বেনাপোল বন্দর থেকে বেশি বেশি রাজস্ব আদায় করা গেলে দেশের জাতীয় অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধি হবে। সবার আগে বাংলাদেশ এই স্লোগানকে মাথায় রেখে দেশের প্রতিটি বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ভারসাম্য রাখতে দু’ দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি সাবিরা সুলতানা মুন্নি, বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, যশোরে চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান, কৃষকদলের কেন্দ্রীয় নেতা মহসিন কবির, শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাসান জহির,সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন, খাইরুজ্জামান মধু, পৌর বিএনপির সভাপতি নাজিম উদ্দিন প্রমুখ।
পরে প্রতিমন্ত্রী শার্শার উলাশী জিয়া খালের মুক্তাঞ্চল কর্মসূচি ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
