অভয়নগর সংবাদদাতা :
যশোরের অভয়নগরে সাংবাদিক মোঃ মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে একটি মানহানি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সিনিয়র জুডিশিয়াল আমলী আদালত, অভয়নগর (যশোর)-এ দায়ের করা এ মামলার বাদী উপজেলার আলীপুর গ্রামের মৃত ঈমান আলীর পুত্র এবং ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি পিয়ার আলী।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বাদী নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেন—“স্বাধীন কণ্ঠ” নামে একটি অনলাইন ফেসবুক পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়ে মোশারফ হোসেন বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে তার ছবি ব্যবহার করে সংবাদ প্রকাশের ফলে তার সম্মানহানি হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

এছাড়া, “সাংবাদিক কামাল” নামীয় একটি অনলাইন ফেসবুক পত্রিকার সাংবাদিক মোঃ কামাল হোসেনও পূর্বে বাদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যস্থতায় বিষয়টির মীমাংসা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পূর্বের একটি সংবাদকে ভিত্তি করে অভিযুক্ত মোশারফ হোসেন ২৭ জুলাই “স্বাধীন কণ্ঠ” নামীয় প্ল্যাটফর্মে সরকারি স্লাব লুটের অভিযোগে পিয়ার আলীকে জড়িয়ে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন

তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, “স্বাধীন কণ্ঠ” কোনো ফেসবুক পত্রিকা নয়, এটি একটি অনলাইন পত্রিকা এবং অভিযুক্ত মোশারফ হোসেন ওই পত্রিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

এদিকে, স্লাব লুটের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এলজিইডি কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলের ছবি, শ্রমিকদের বক্তব্য এবং স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী বিএনপি নেতা পিয়ার আলীর নাম উঠে আসে বলে দাবি করেন সাংবাদিক কামাল হোসেন। এমনকি মহাকালের কুন্ডুপাড়ায় ড্রেনের ওপর বসানো কিছু স্লাব নিয়েও স্থানীয়রা একই অভিযোগ করেন।

সাংবাদিক কামাল হোসেন বলেন, “প্রকাশিত সংবাদটি তথ্য-উপাত্ত ও স্থানীয়দের বক্তব্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক চাপের কারণে পরবর্তীতে সমঝোতা করতে বাধ্য হয়েছিলাম।”

অন্যদিকে, অভিযুক্ত সাংবাদিক মোশারফ হোসেন বলেন, “আমার নাম ব্যবহার করে সম্পূর্ণ মনগড়া ও ভিত্তিহীন অভিযোগে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এটি রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার একটি অপচেষ্টা।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “সরকারি স্লাব লুটের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে এবং বিষয়টি ভিন্নখাতে নিতে পরিকল্পিতভাবে এ মামলা করা হয়েছে।” পাশাপাশি তিনি স্লাব উদ্ধারের দাবি ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা চলছে।

Share.
Exit mobile version