খান নাজমুল হুসাইন, সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরার কুলিয়ায় সরকারি গাছ কর্তন করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে ৬ মার্চ বিকেলে দেখা যায় সাতক্ষীরার দেবহাটার কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি গাছ ও জমি দখলে নেয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন কুলিয়া গ্রামের মাসুদ রানা, কামরুল ইসলাম ও কুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলাম।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারির শেষে কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মেম্বার ও চৌকিদারদের উপস্থিতিতে গাছ কেটে জমিতে বাড়ির ভিত কেটে দখল নেয়ার চেষ্টা করা হয়।
এ সময় স্থানীয়রা সেখানে যেয়ে বাধা দিলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রভাষ চন্দ্র মন্ডল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহাকে জানান। তিনি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতারকে বিষয়টি অবগত করেন।
পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সার্ভেয়ার নাছির হোসেন এসে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মেম্বার, চৌকিদার সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মাপ জরীপের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের সীমানা নির্ধারণ করে লাল ফ্লাগ ঝুলিয়ে দেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রভাষ চন্দ্র মন্ডল, ইউনিয়ন সচিব ফারুক হোসেন, চৌকিদার ইব্রাহিমকে ৫ লাখ টাকায় ম্যানেজ করে মাসুদ রানা, কামরুল ইসলাম, আসাদুল ইসলাম ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন প্রজাতির ১৩টি গাছ কেটে সরকারি জমি দখল করে বাড়ির ভিত নির্মাণ করেন। চৌকিদার ইব্রাহিমের বাড়িতে কিছু গাছের খড়ি এখনও আছে।
চৌকিদার ইব্রাহিমের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, দফাদার হাবিবের অনুমতিতে আমি কিছু গাছের ডাল পাতা নিয়ে গেছি। দফাদার হাবিবের সাথে জানতে চাইলে, তিনি বলেন আমি ইউনিয়ন সচিব স্যারের অনুমতি নিয়ে চৌকিদারকে নিতে বলেছি।
এ বিষয়ে কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফারুক হোসেনের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানিনা।
৫ লাখ টাকায় ম্যানেজের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রভাষ চন্দ্র মন্ডল বলেন, সার্ভেয়ার স্যার এসে সীমানা নির্ধারণ করেছে, আমরা দখল বুঝে পেয়েছি।
গাছ কাটার বিষয়ে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেব।
৫ লাখ টাকায় ম্যানেজের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহার সাথে অবৈধ দখলদার ও সরকারি গাছ কর্তনের বিষয়ে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, আমি চেয়ারম্যানকে বলেছি দেবহাটা থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে।
এ বিষয়ে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
