হাবিব সারওয়ার, সিলেট
হযরত করিম শাহ (রহ.) মাজারে ওরস বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাদাঘাটে ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন শেষে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটির তাহিরপুর উপজেলা শাখার আয়োজনে উপজেলার সর্বস্তরের আলেম উলামাগণের অংশগ্রহণে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন শেষে এক সমাবেশ হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামে হযরত করিশ শাহ (রহ.) মাজার শরিফে কথিত মাজার কমিটির ব্যানারে রবিবার দিবাগত রাতে বাৎসরিক ওরস পালনের নামে মাদক সেবন, অশ্লীল নাচ গান, উচ্চশব্দে মাইক, সাউন্ডবক্স বাজানো, জুয়ার আসর বসানো, দোকানপাট বসানোর আড়ালে চাঁদাবাজি করার তোড়জোড় শুরু করা হয়েছে।
এসব অপকর্ম ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ জায়েজ করতে গিয়ে ওরস পালনের নামে উপজেলা প্রশাসনের নিকট সম্প্রতি আবেদন জমা দিয়ে ওই কমিটির লোকজন জোরালোভাবে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে। বক্তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির হওয়ার পূর্বেই রোববারের ওরস আয়োজনসহ সব ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ বন্ধের আহ্বান জানান। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সভাপতি হাফেজ মাও. আবুল বাশার নুরুল্লাহ, মাও. মুখলেছুর রহমান, মাও. হাফেজ ইয়াহিয়া, হাফেজ এহসান ওলামায়ে কেরাম, তৌহিদি জনতা প্রমুখ।
উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ইউপি সদস্য পুরানঘাট গ্রামের বাসিন্দা মাজার কমিটির সভাপতি দাবিদার আবু তাহেরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আবেদন করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার থানার ওসিকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলার পর তিনি অনুমতি দিয়েছেন। রোববার রাতে ওরস পালন করবেন বলেও জানান আবু তাহের।
তাহিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের কাছে ওরসের অনুমতি প্রদানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আবেদনে শুধুমাত্র থানার সিল মেরে রিসিভ করেছি এর বেশি কিছু নয়।
শনিবার তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল হাসেম বললেন, ওরসের আবেদন নিয়ে আসলে আমি থানার ওসিকে নির্দেশনা দিয়েছিলাম আইনশৃস্খলা পরিস্থিতি দেখে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে। কিন্তু ওরস পালনের জন্য কোন রকম অনুমতি দিইনি। এখন যেহেতু ওই ওরসকে কেন্দ্র করে আলেম উলামা সমাজ আপত্তি জানিয়েছেন সেক্ষেত্রে ওসিকে পুনঃরায় নির্দেশনা দিয়েছি ওরস বন্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে।