বাংলার ভোর প্রতিবেদক
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে ২০১১ সালের ৮ জানুয়ারি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর গুলিতে নিহত কিশোরী ফেলানী খাতুনের হত্যাকাণ্ডের ১৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা কাঁটাতারে ঝুলে থাকা ফেলানীর মরদেহ আজও বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নির্মম প্রতীক হয়ে রয়েছে।
ফেলানী হত্যাকাণ্ডের ১৫ বছর পার হলেও এখনো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনাও বন্ধ হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে সীমান্ত হত্যা বন্ধ, ফেলানী হত্যার বিচার এবং মানবাধিকার রক্ষার দাবিতে যশোরে আধিপত্য বিরোধী মার্চ অনুষ্টিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শহরের ভৈরব চত্বরে এই প্রতিবাদী কর্মসূচির আয়োজন করে।
আধিপত্য বিরোধী মার্চ কর্মসূচিতে বক্তারা অবিলম্বে ফেলানী হত্যার বিচার নিশ্চিত করা, সীমান্তে নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর গুলি বন্ধ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় মানবাধিকারভিত্তিক নীতি বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে এনসিপি যশোরের যুগ্ম সমন্বয়কারী ড. মোহাম্মদ আল জাবীরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, এনসিপি যশোর জেলার প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, যুগ্ম সমন্বয়কারী সাজিদ সরোয়ার, আশা লতা, সদস্য আসিফ সোহান, যশোর জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক ইমদাদ হোসেন, যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল নাদিম, যশোর জেলা ছাত্র শক্তির তপু ইসলাম, অমিত সহ অন্যান্য নেতাকর্মীবৃন্দ।
এ সময় বক্তারা বলেন, ফেলানী হত্যার ১৫ বছর পার হলেও আজও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। সীমান্তে নিরস্ত্র মানুষের ওপর এমন নির্মমতা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। অবিলম্বে সীমান্তে হত্যা বন্ধ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সাথে সাথে ভারতীয় আধিপত্য ও এদেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদিদের বিচারের আওয়াতায় আনতে হবে।
বক্তারা ওসমান হাদীর হত্যার বিচার নিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রের নাটকীয় ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কোনো অদৃশ্যশক্তির ইশারাতে কাজ করে। বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে আইন শৃংখলা অবনতির জন্য তিনি পুরোপুরি দোষী। তাকে পদত্যাগ করা উচিৎ।ওসমান হাদীসহ ফেলানী হত্যার দ্রুত বিচারের দাবি করেন তারা।

