রামপাল শ্যামনগর সংবাদদাতা

সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যুছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন সক্রিয় সদস্য বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। আত্মসমর্পণের সময় তারা বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র গোলাবারুদ জমা দেন।

 

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন তথ্য জানান। এর আগে সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবনের চরপুটিয়া খাল এলাকায় কোস্ট গার্ডের একটি দলের কাছে তারা আত্মসমর্পণ করেন।

 

কোস্ট গার্ড জানায়, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূল উপকূলীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেঅপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন এবংঅপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড পরিচালিত হচ্ছে। এসব অভিযানে পর্যন্ত ৪৫ জন বনদস্যুকে অস্ত্র গোলাবারুদসহ আটক এবং দস্যুদের জিম্মিদশা থেকে ৪২ জন জেলে, বাওয়ালি বনজীবীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের মধ্যে খুলনা জেলার দাকোপ, কয়রা বটিয়াঘাটা এলাকার বাসিন্দা হলেন, বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখ (৪৫), মুজাহিদ গাজী (২৭), বিল্লাল শেখ (৩৫), জাহিদ হাসান (২৮), সুমন ঢালী (৩০), এরশাদ শিকারী (৪২), ওয়াহিদুজ্জামান (৩০), আইউব শেখ (৪২), রাফসান ঢালী (৩০), পারভেজ শেখ (২৭), কামরুল শেখ (২৫), জহুরুল গাজী (৩৮), সিরাজুল তরফদার (৩৮), আমিনুল ইসলাম (৪০), আসাদুল ইসলাম (৪২), বাবুল শেখ (৪৫), শাজাহান শেখ (৪২) হেলাল (৩৮)

 

এছাড়া বাগেরহাট জেলার রামপাল, ফকিরহাট, কচুয়া, মোড়লগঞ্জ শরণখোলা এলাকার বাসিন্দা হলেন, আকরাম শেখ (৪৫), নুরুল ইজারদার (৫০), হাসান শেখ (২৭), কামরুল শেখ (২৮), জিয়া শেখ (৩৮), কবির সুলতান (৫৫), কাইয়ুম জমাদ্দার (৪০), শরিফুল ইসলাম বয়াতি (২১) এবং পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা মো. জয়নাল আবেদীন (৩৮)

 

আত্মসমর্পণকারী দস্যুরা ৩টি বিদেশি বন্দুক, ১টি এইট শুটার, ১টি ফোর শুটার, ৫টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১৫টি দেশীয় পাইপগান, ২টি চায়না পাইপগান, ৩৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ৫৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ কোস্ট গার্ডের কাছে জমা দেন।

 

কোস্ট গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, আত্মসমর্পণকারী সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে জেলে, মৌয়াল বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিলেন।

 

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জব্দকৃত অস্ত্র গোলাবারুদ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

 

এদিকে, কোস্ট গার্ড সুন্দরবনের অন্যান্য সক্রিয় বনদস্যুদেরও আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকারেরজিরো টলারেন্স নীতির আওতায় অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২১ জুন সাতজন জুলাই তিনজন  দস্যু অস্ত্রসহ কোস্ট গার্ডের  নিকট আত্মসমর্পণ করেছিল।

Share.
Exit mobile version