জাহিদুল কবীর মিল্টন / কামরুজ্জামান টিটু :
শহরের ঘোপ জেল রোডে সোহাগ অটোর অনুমোদন বিহীন অটো রিকশা তৈরির অবৈধ কারখানাটির বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সোহাগ অটোর দোকানের উত্তর পাশে কদম রসুলের বাড়ির গলির ভিতর অবস্থিত কারখানাটি চলছে পুরোদমেই।
প্রতিদিনই অনুমোদনবিহীন অবৈধ এই কারখানায় ডজন ডজন অটো রিকশা তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে শহরের যেমন যানজট সৃষ্টি হচ্ছে তেমনি সরকারও মোটা অংকের টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। সোহাগ অটোর অনুমোদনবিহীন অটো রিকশা তৈরির অবৈধ কারখানা নিয়ে কয়েকটি দৈনিক বাংলার ভোরসহ বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালে একাধিক নিউজ প্রকাশিত হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এ সুযোগে প্রশাসনের নাকের ডগায় সোহাগ তার অবৈধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
অনুমোদনবিহীন ও অবৈধ অটো রিকশা তৈরির কারখানার বিরুদ্ধে সাধারণত বেশ কিছু কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু প্রশাসন সেদিকে হাঁটছে না। বিগত ফ্যাসিস্ট আমনে স্থানীয় যুবলীগ নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতায় স্থাপিত কারখানাটির প্রতি এখনও স্থানীয় প্রশাসন ঢিমেতালে চলো নীতি অনুসরণ করছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।
প্রচলিত আইন অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করে অবৈধ কারখানার কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়া এবং ভবন বা প্রাঙ্গণটি সিলগালা করার আইন রয়েছে।
জরিমানা ও কারাদণ্ড: ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন’, ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইন’ এবং ‘ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন’ লঙ্ঘনের দায়ে কারখানার মালিককে মোটা অঙ্কের জরিমানা এবং অনাদায়ে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়ার বিধান রয়েছে।
মালামাল ও যন্ত্রপাতি বাজেয়াপ্ত: অবৈধভাবে তৈরি করা অটো রিকশা, যন্ত্রাংশ এবং রিকশা তৈরির ভারি যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম প্রশাসন জব্দ বা বাজেয়াপ্ত করতে পারে।
ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন: কারখানার অবৈধ বিদ্যুৎ, গ্যাস বা পানির সংযোগ থাকলে তা তাৎক্ষণিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেয়ারও প্রচলিত নিয়ম রয়েছে।
নিয়মিত মামলা দায়ের: কারখানার মালিক বা জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করার আইন আছে।
অথচ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কেউই সোহাগ অটোর অনুমোদন বিহীন অবৈধ অটো রিকশা তৈরির কারখানার বিরুদ্ধে উল্লেখিত কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সোহাগ অটোর স্বত্তাধিকারি সোহাগের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে অনুমোদন বিহীন অবৈধ অটো রিকশা তৈরির কারখানা পরিচালনা করতে সহযোগিতা করছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক সুজন সরকারে ০১৩১৮…০১ নম্বর মোবাইলে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
