বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর শহরের পালবাড়ি চৌগাছা বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দাদের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি খাবার হোটেলের অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মা সুইটস্ হোটেলের সব ধরনের ময়লা-আবর্জনা ও খাবারের উচ্ছিষ্ট প্রতিদিন হোটেলের পেছনের একটি খালি জায়গায় ফেলা হচ্ছে। ফলে, অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলো পচে সৃষ্টি করছে তীব্র দুর্গন্ধ। এছাড়া রয়েছে খোলা টয়লেট। সেকারণে প্রতিনিয়ত সেখানকার দুর্গন্ধে বসবাস করা দায়।
এ ঘটনায় গত বছর যশোর পৌরসভায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়। পৌরকর্তৃপক্ষ লোক পাঠিয়ে তাদের বিষয়টি জানালেও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেয়নি হোটেল মালিক।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্গন্ধের বিষয়টি বারবার তাদের বললেও তারা কর্ণপাত করেনি বলে অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, এই মা সুইটস্ আমাদের কয়েকটি বাড়ির আশেপাশে শুধু ময়লা-আবর্জনা ফেলছে তাই না, ওই স্থানে হোটেলের একটি খোলা শৌচাগারও রয়েছে। সেখান থেকেও দুর্গন্ধ ছড়িয়ে আশপাশের পরিবেশ দুষিত করছে। আমাদের কয়েকটা পরিবারের বসবাসের অনুপযোগী করে তুলেছে। বিশেষ করে যেদিন গরম বেশি পড়ে, সেদিন দুর্গন্ধ আরও বেড়ে যায়, যার কারণে ঘরের দরজা-জানালা খুলে রাখা যায় না।
স্থানীয় বাসিন্দা মাছুমা খাতুন বলেন, ওই হোটেলের ময়লা-আবর্জনা তো ঘরের পেছনে ফেলে আবার রয়েছে তাদের খোলা টয়লেট। মোটকথা এসব থেকে সারাক্ষণ দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। ফলে আমাদের এই এলাকা দুর্গন্ধে ভরে যায়। খাবার খাওয়া তো দূরের কথা, ঘরের ভেতর ঠিকমতো বসেও থাকা যায় না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিবেশ আরও খারাপ হয়ে যাবে।
ভাড়াটিয়া আফিয়া খাতুন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। এমনকী অনেক ভাড়াটিয়াও অতিষ্ঠ হয়ে বাসা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
অভিযুক্ত হোটেল মালিক আব্দুর রশিদকে সরাসরি পাওয়া না গেলেও মোবাইলফোনে তিনি অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, দ্রুত জায়গাটি পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জায়েদ হোসেন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে এর আগেও ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছিল। আমরা হোটেলের পেছনের ফাঁকা জায়গাটা পৌরসভার উদ্যোগে পরিষ্কার করে দিয়ে এসেছি। নতুন করে অভিযোগ পাওয়ার পর আবারও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিবেশ দূষণের দায়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেবো।

