# দুইদিন ধরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা যশোরে
# গরমের তীব্রতায় কাটবে পবিত্র ঈদুল ফিতর
বাংলার ভোর প্রতিবেদক
দুইদিন ধরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বয়ে যাচ্ছে যশোরে। শনিবার বেলা চারটার দিকে ৩৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে যশোর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণাধীন আবহাওয়া অফিস। শুক্রবারও দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো যশোরে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত দুদিন ধরে তাপদাহে চরম ভোগান্তিতে রয়েছে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিশেষ করে এদিন ঈদের কেনাকাটা করতে আসা মানুষেরা গরমে নাভিশ্বাস উঠে যায়। তবে দাবদাহে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন রিকশাচালকরা।
এদিকে, এবার দেশের বেশিরভাগ অংশজুড়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আপাতত এই গরমের যন্ত্রণা থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো সুখবর নেই আবহাওয়া অধিদফতরের কাছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, গরমের তীব্রতার মধ্যেই এবার কাটবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের দিন সারাদেশের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। আবহাওয়া অধিদফতরের সবশেষ বার্তায় বলা হয়েছে, ঢাকা, বরিশাল, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ। এর মধ্যে যশোর ও সিরাজগঞ্জ জেলায় তীব্র তাপপ্রবাহ বইছে।
আর কয়েক দিন পর ঈদুল ফিতর। বিগত বছরগুলোতে ঈদ সামনে রেখে শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি এবং বিপণিবিতানগুলোতে জমজমাট বেচাকেনা চললেও এ বছর গরমের কারণে শহরে দিনের বেলা মানুষের উপস্থিতি কম। কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন বলেন, ‘তাপপ্রবাহের কারণে বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম। যে কারণে বেচাকেনায় প্রভাব পড়েছে। গত কয়েক দিন তাপদাহ হলেও প্রতিনিয়ত বাড়ছে।’
শহরের দড়াটানায় পথচারি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘দু দিন যশোরে তীব্র তাপদাহ বয়ে যাচ্ছে। রোদ্দুরে সব পুড়ে যাচ্ছে।
যেহেতু দু’একদিন পরেই ঈদ। তাপদাহ হলেও বাধ্য হয়ে মার্কেটে আসতে হচ্ছে। এসেই গরমে কাহিল হয়ে পড়েছি।’ তবিবর নামে এক রিকসা চালক বলেন, ‘মনে হচ্ছে আগুন উড়ছে। রিকসা চালাতে কষ্ট হচ্ছে, জীবিকার তাগিদে বের হতে হচ্ছে। পিচের তাপের আঁচ মুখে লাগছে; মনে হচ্ছে মুখ পুড়ে যাচ্ছে।’ চলমান তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। তাপপ্রবাহ থেকে রক্ষা পেতে তাঁরা মাথায় টুপি অথবা গামছা পরে চলাচল করছেন। কৃষিকাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা ক্লান্ত দেহ নিয়ে ছায়ায় বিশ্রাম করছেন। গরমের হাত থেকে শরীরকে শীতল করে জুড়িয়ে নিতে শহর থেকে কিশোর-যুবকেরা দল বেঁধে ছুটছে গ্রামাঞ্চলে নলকূপগুলোতে গোসল করতে।
এদিকে, সাধারণ মধ্যে এপ্রিলে তীব্র তাপদাহ বয়ে যায় যশোরে। তবে এবার মার্চেই যশোরে অব্যহত তাপদাহে জনমনে অস্বস্তি ও উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। সচেতন মহল বলছে, সাধারণ মার্চে তেমন একটা তাপদাহ বিরাজ করে না। তবে এবার আগেভাগে তাপদাহ শুরু হওয়াতে প্রাণীকূলকে আরোও ভোগান্তি পোহাতে হবে বলে ধারণা করছেন তারা।
দুপুরে আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমানের দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। যশোর ও সিরাজগঞ্জ জেলার ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং মৌলভীবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও রাঙ্গামাটি জেলাসহ রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশ এবং ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। রোববার অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। বর্ধিত পাঁচ দিন আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা জানান, ঈদের দিন সারাদেশে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ থাকার সম্ভাবনা আছে। সর্বোচ্চ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা উঠতে পারে। ঈদের দিন কোনো ঝড় হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপাতত ঘূর্ণিঝড় বা কোনো ঝড় হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে ঈদের দুই-এক জায়গাতে হতে পারে; তাও না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ঈদের দিন আবহাওয়া শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তবে অস্থায়ীভাবে দেশের দুই এক-জায়গায় কালবৈশাখী ঝড় হতে পারে বলে জানিয়েছেন এই আবহাওয়াবিদ।