কাজী নূর
যশোর শহরের শংকরপুরে একটি কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠানের কারখানায় কাজ করেন জোসনা বেগম। তার স্বামী মিজান ঘোপ এলাকার একটি ক্লিনিকে ওয়ার্ড বয় পদে চাকরি করেন। তাদের দুজনের আয়ে চলে পাঁচজনের সংসার। তার মধ্যে দুটি শিশু স্কুল শিক্ষার্থী। এই আয়ে এই বাজারে দ্রব্যমূল্য নাগালের বাইরে চলে গেলে মাস শেষে হিসেব মেলানো আমাদের মতো শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে খুব কঠিন। কোন না কোন মাসে কিছু না কিছু পণ্যের দাম বাড়েই, এটা অবধারিত। বাজার নিয়ে একটু স্থির থাকার কোন সুযোগ মেলে না।
শুক্রবার যশোর শহরের বড় বাজার হাজী মোহাম্মদ মহসিন রোডে সরেজমিনে গেলে এভাবেই নিজের অসহায়ত্বের গল্প বর্ণনা করেন ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের বাসিন্দা জোসনা বেগম। জোসনা বেগমের কথার সূত্রে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজি, ডিম, মাংসসহ নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল থাকলেও পেঁয়াজের ঝাঁজ বেড়েছে কয়েক গুণ।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে পেঁয়াজ ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহের তুলনায় ৪০ টাকা বেশি। বিক্রেতা আব্বাস উদ্দিন জানান, পেঁয়াজের দাম হঠাৎ লাফিয়ে ৭০ থেকে ১১০ টাকায় ঠেকেছে। আড়ত থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, পেঁয়াজের দাম আরো বৃদ্ধির আশংকা রয়েছে।
এদিকে সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবরকম সবজির দাম কমতির দিকে। বর্তমানে ফুলকপি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা, শিম ৮০ টাকা, মুলো ৩০ টাকা, মেটে আলু ৭০ টাকা, মিচুরি ৮০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, মানকচু ৪০ থেকে ৬০ টাকা, পুঁইশাক ২০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, শষা ৪০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৬০ টাকা, ঝিঙে ৩০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, কচুর মুখি ২০ থেকে ৩০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, সবুজ শাক ২০ টাকা, পটল ৩০ টাকা, কুমড়ো ৪০ টাকা, কাকরোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ধনেপাতা ৪০০ টাকা, কাঁচা কলা ৪০ টাকা, ওল ৭০ টাকা, লাউশাক ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা, ঢেরস ৬০ টাকা, জলপাই ৩০ টাকা, উচ্ছে ৮০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, কুশি ৪০ টাকা, গাজর ১৫০ টাকা, বিটরুট ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পালং শাক ৩০ টাকা, ডাটা ৩০ টাকা আটি, লাউ ৩০ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এ সপ্তাহে মাছের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কম। বিক্রেতারা বলছেন, মাছের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু দাম কমলেও দেখা নেই ক্রেতার। বাজার ঘুরে দেখা গেছে বর্তমানে পাবদা ২৮০ থেকে ৩৪০ টাকা, বাটা ১৫০ টাকা, টেংরা ৬৫০ টাকা, হরিণা চিংড়ি ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা, আড়াই কেজি সাইজের রুই ৪০০ টাকা, ২ কেজি সাইজের কাতলা ২৫০ টাকা, বাগদা চিংড়ি ৭০০ টাকা, পারশে ৫০০ টাকা, আড় ৫৫০ টাকা, নাইলোটিকা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, চাপলে ৪০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, ভেটকি ৮০০ টাকা, পাঙাশ ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা, মায়া ৪০০ টাকা, শোল ৬০০ টাকা, গলদা ১৪০০ টাকা, পুঁটি ৩০০ টাকা, কৈ ১৮০ টাকা, তারা বাইন ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, সিলভার কার্প ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতা রুবেল হোসেন জানান, মাসের শুরু তার উপর আজ শুক্রবার কিন্তু বাজারে ক্রেতা নেই, বিক্রি বাট্টা নেই। আপনি সাংবাদিক মানুষ গোটা বাজার ঘুরে দেখেন, বাজারে ক্রেতার আকাল পড়েছে। এমনিতে গত ৫/৬ দিন এমনিতে ঘাটতি হয়েছে। আজও ঘাটতি হবে মনে হচ্ছে। জায়গা ভাড়া, খাজনা, বরফ, বিদ্যুৎ, পানিসহ আনুষঙ্গিক খরচ এর সঙ্গে রয়েছে।
এদিকে বাজারে ছোট ইলিশের সরবরাহ বৃদ্ধির সাথে বিক্রি বেড়েছে ছে বলে জানান বিক্রেতা আলাউদ্দিন ব্যাপারী। তিনি জানান, ছোট সাইজের ইলিশের চাহিদা বেশি। বর্তমানে ৩ পিসে কেজি সাইজের ইলিশ ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, ৫ পিসে কেজি সাইজের ইলিশ ৫০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। কেজি সাইজের বা আরো বড় ইলিশ পাওয়া গেলেও সেদিকে ভিড়ছেন না ক্রেতা।
মুরগির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকা, সোনালী ২৫০ টাকা, লেয়ার ৩৩০ টাকা, দেশি ৫৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
চালের পাইকারি ও খুচরা বাজার চাল চান্নী ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতার আনাগোনা কম। অনেক বিক্রেতা মুঠোফোনে কেউবা খবরের কাগজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন। বিক্রেতা মা লক্ষী ভান্ডারের মালিক কালীপদ পাল জানান বর্তমানে মিনিকেট ৬২ থেকে ৬৬ টাকা, আটাশ ৫৬ থেকে ৬০ টাকা, কাজললতা ৫৪ টাকা, সুবললতা ৫৮ থেকে ৬০ টাকা, মোটা ৪৮ থেকে ৫২ টাকা, বাসমতী ৭৮ থেকে ৮২ টাকা, নাজিরশাইল ৭৬ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
মুদি পণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে খোলা ভোজ্যতেল ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিন ১৯০ টাকা, সরিষার তেল ২৫০ টাকা, পাম তেল ১৭৭ টাকা লিটার বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মসুরি ১৪০ টাকা, মোটা মসুরি ১০০ টাকা, সোনা মুগ ১৫০ টাকা, মোটা মুগ ১২০ টাকা, ছোলার ডাল ১১০ টাকা, আটা ৪৬ টাকা, ময়দা ৫৫ টাকা, সাদা চিনি ১০৫ টাকা, লাল চিনি ১২৫ টাকা, আলু ২০ টাকা, পিঁয়াজ ১১০ টাকা, রসুন ১১০ টাকা, আদা ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে ডিমের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে লাল ডিম ৪৪ থেকে ৪৬ টাকা, সাদা ডিম ৪২ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে। ডিম বিক্রেতা নুর ইসলাম বলেন, এমনিতে ডিমের দাম কম। সামনে আরো কিছুটা কমতে পারে মনে হচ্ছে।

