বাংলার ভোর প্রিতিবেদক :
যশোরের খোলাডাঙ্গা এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রুবি খাতুনের বাড়িতে বোমা হামলা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় বিএনপির আরবপুর ইউনিয়ন শাখার নেতা বাচ্চু মিয়া ওরফে ‘রড বাচ্চু’সহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত শেষে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অমৃত দাস আদালতে এ প্রতিবেদন জমা দেন।
মামলার অভিযুক্ত অন্য আসামিরা হলেন, বিএনপির আরবপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মেহেদী হাসান, যিনি রড বাচ্চুর ছেলে; একই ওয়ার্ডের সদস্য জাহিদ হাসান শাওন, তারেক হাসান অন্তর, হাসান কবির সাগর, মুজিত মিয়া, সেলিম বিশ্বাস কুটি, পারভেজ, সাব্বির হোসেন, রুবেল, জাফর ওরফে জামাই জাফর, বিপ্লব হোসেন, রাকিব, আব্দুল আল মামুন ও ‘গান্ডু’ সুমন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রুবি খাতুনের স্বামী সলেমান গাজীর মৃত্যুর পর তাদের ওয়ারিশি জমি দখলমুক্ত করে দেয়ার কথা বলে বাচ্চু মিয়া ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট রুবির কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা নেন। পরে দীর্ঘ সময়েও জমি উদ্ধার করে দিতে না পারায় রুবি টাকা ফেরত চান। এ নিয়ে বাচ্চুর সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়।
এর জের ধরে গত ১৫ জুন রাতে দেশীয় অস্ত্র ও হাতবোমা নিয়ে রুবি খাতুনের বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় হামলাকারীরা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং রুবিকে হত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের তদন্ত শেষে এ ঘটনায় ১৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে বোমাবাজি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও জমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ মামলার এক সাক্ষীর ছেলে অহিকে অপহরণ করে বিদ্যুতের শক দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজের ভাতিজা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোর জেলার সাবেক আহ্বায়ক রাশেদ খানের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে বাচ্চু আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।
এ বিষয়ে বিএনপি যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের পর এখন মামলাটির পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম আদালতের মাধ্যমে এগিয়ে যাবে।

