বাংলার ভোর প্রতিবেদক
বেগম খালেদা জিয়া আমৃত্যু পর্যন্ত জাতির অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। চব্বিশের ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর যখন অর্ন্তবর্তী সরকার গঠন নিয়ে সমগ্র রাজনৈতিক এবং শ্রেণী পেশার মানুষের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি হয়। তখন বেগম খালেদা জিয়ার বার্তায় সকল রাজনৈতিক এবং শ্রেণী পেশার মানুষ ঐক্যমতে পৌঁছায়। ঠিক তেমনই জুলাই সনদ কিংবা সংস্কার কমিশনের বিভিন্ন রূপ রেখা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন যখন মুখোমুখি অবস্থানে তখনও বেগম খালেদা জিয়ার শান্তির বাণী সকল রাজনৈতিক দলকে শান্ত করেছিল।
বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় যশোর সদর উপজেলার উপশহর ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজিত শোক ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অনুষ্ঠিত শোক সভায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এসব কথা বলেন।
মঙ্গলবার উপশহর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত শোকসভায় অমিত আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বারংবার দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপোষহীনতা দেখিয়েছেন। সাধারণ গৃহবধূ থেকে পিচঢালা রাজপথে নেমে এসে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
সেদিন বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন, হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা। তার ডাকে সেদিন দেশের সমগ্র ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে এসে স্বৈরাচারের পতন নিশ্চিত করেছিল। নয় বছরের সংগ্রামের মাধ্যমে তিনি মানুষের জন্য গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন।
৮৬ এবং ৮৮ নির্বাচনের তিনি আপোষ করেননি। তার আপোষহীনতার জয় জয়কার দেখেছি ৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে। সেই নির্বাচনে দেশের মানুষ তাকে হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসার দৃষ্টান্ত দেখিয়েছিল ধানের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিষিক্ত করে। তিনি মানুষের ভালোবাসার প্রতিদান দিয়েছিলেন তার কর্মের মাধ্যমে। এই যশোরের প্রতি টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি প্রতিষ্ঠান, রাস্তা, ঘাট, মসজিদ, মন্দিরের উন্নয়নের তার হাতের ছোঁয়া রয়েছে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সীমাহীন জুলুম নির্যাতনের কাছেও বেগম খালেদা জিয়া আপোষ করেননি। মানুষের সকল গণতান্ত্রিক অধিকার, মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং গণমাধ্যমের লেখার স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন।
এই লড়াই করতে গিয়ে তিনি জীবনের সুখ স্বাচ্ছন্দ্য পরিত্যাগ করেছেন এবং আপনজনকে হারিয়েছেন। তারপরও তিনি থেমে থাকেননি। যে কারণে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় যেমন দেশের সকল মত পথের মানুষের সম্মিলন ঘটে।
উপশহর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু হোসেসের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রেজাউল ইসলাম কামাল, বিএনপি নেতা কাজী কাশেম, আজিজুর রহমান খান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ কাজী শওকত শাহী, উপশহর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।
শোক সভা পরিচালনা করেন, সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য কাজী আজগর হোসেন।

