কাজী নূর :
রায়মানিকের যে কিশোর একদিন গরু চরাতে চরাতে বন্ধুদের বলেছিল, আমরা স্কুলে গিয়ে পড়াশোনা করলে কেমন হয় ? সেই প্রশ্ন থেকেই তার শিক্ষাযাত্রার শুরু। সেই পথ তাকে নিয়ে গেছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষকতার শ্রেণীকক্ষ, কলেজ অধ্যক্ষের কক্ষ, মুক্তিযুদ্ধ, সাহিত্য-সংস্কৃতির অঙ্গন এবং নদী জনস্বার্থের আন্দোলনের বিস্তৃত পরিসরে।
প্রিয় পাঠক বলছি, আমাদের প্রিয় শিক্ষক, রাজনীতিক ও সমাজ চিন্তক অধ্যাপক আফসার আলী স্যারের কথা। স্যার শুধু একজন আদর্শবাদী শিক্ষকের নাম নয়, তিনি একটি ইতিহাস, একটি চেতনা আর নতুন প্রজন্মের প্রেরণার উৎস।
প্রিয় পাঠক আমাদের প্রিয় শিক্ষক শতবর্ষ পদার্পণ করেছেন। স্যারের জন্মশতবর্ষ এমন এক সময় আমরা উদযাপন করছি যখন আমাদের সমাজে আদর্শ, নৈতিকতা আর মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় বিরাজ করছে। নৃশংসতা আর হিংস্রতা সমগ্র সমাজকে ক্ষত বিক্ষত করে তুলেছে। তিনি এ সমাজের অন্ধত্ব, কুসংস্কার আর বৈশম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রেখে চলেছেন।
সকলের প্রিয় শিক্ষক অধ্যাপক আফসার আলীর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘জন্মশতবর্ষ উদযাপন কমিটির উদ্যোগে শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানের আয়োজনে করা হয়।
দৈনিক বাংলার ভোর’র উপদেষ্টা সম্পাদক হারুন অর রশীদের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে অধ্যাপক আফসার আলীর জীবনীর তথ্যচিত্র প্রদর্শন ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়। পরে প্রিয় শিক্ষকের প্রিয় কিছু গান গেয়ে শোনান যশোরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা।
অনুষ্ঠানের মধ্যভাগে অধ্যাপক আফসার আলী ও তার স্ত্রী শাহিদা বেগমকে মঞ্চে আসন দেয়া হয়। পরে তাকে ফুলেল শুভেচছা জানান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ দল- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শিক্ষাবিদ নার্গিস বেগম, বাম নেতা ইকবাল কবীর জাহিদ, তসলিমুর রহমান ও বাংলার ভোর’র উপদেষ্টা সম্পাদক হারুন অর রশীদ।
এরপর একে একে সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের পক্ষে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ভারতী রাণী হালদার, সিনিয়র সিটিজেন কর্ণার, শিক্ষাবোর্ড মডেল স্কুলের পক্ষে প্রফেসর শেখ আব্দুল হান্নান, তালবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহনাজ পারভীন, ডা. আব্দুর রাজ্জাক কলেজের অধ্যক্ষ জেএম ইকবাল হোসেন, জাগরণী চক্র ফাউণ্ডেশনের পক্ষে কাজী মাজেদ নেওয়াজ, যশোর ইনস্টিটিউটের পক্ষে সৈয় শাহজাহান আলী খোকন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক, চারুপীঠ যশোর, স্টুডিও ফিউশনের পক্ষে কামরুজ্জামান আজাদ, জাতীয় কৃষক ও খেতমজুর কমিটি, বিপ্লবী যুব মৈত্রী, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, রায়মানিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি মহিলা কলেজ যশোর, এসএসসি ৮৬, দৈনিক প্রভাতফেরী সম্পাদক ফকির শওকত, চিন্তাপ্রকাশ যশোরের পক্ষে মফিজুর রহমান রুননু, শিল্পাঙ্গন যশোর, সুরধুনী, স্পন্ন্দন, সপ্তসুর, জাসদ, বাসদ, কিংশুক যশোর, স্যারের ছাত্র ছাত্রী এবং যশোরের সাংস্কৃতিক সংগঠন সমূহ ফুলেল শুভেচছা জানায়।
শেষে অনুভূতি ব্যক্ত করে অধ্যাপক আফসার আলী বলেন, মানুষ আমাকে এতটা ভালোবাসে জানতাম না। আজ এত এত মানুষের ভালোবাসা পেয়ে বুঝলাম মানুষ আমাকে হৃদয়ে এবং প্রার্থনায় রাখে। এ সময় সুরবিতানের সভাপতি অ্যাড. বাসুদেব বিশ্বাস, অধ্যাপক কাজী শওকত শাহী, চারুপীঠের পরিচালক মামুনুর রশীদ, বিবর্তনের সানোয়ার আলম খান দুলু, নওরোজ আলম খান চপল, সৈয়দ রানা মুস্তাফী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, অধ্যাপক আফসার আলী যশোর সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের রায়মানিক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। একাডেমি তথ্য অনুযায়ী তিনি ১৯৪১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তবে পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী ৮ আশ্বিন, মঙ্গলবার, ১৩৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে তার জন্ম।
তিনি ১৯৬১ সালে সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজে বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে একই কলেজে ১৯৯৫ সালে অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন এবং ১৯৯৭ সালে অবসরে যান।
শিক্ষকতার পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। তিনি যশোর সাহিত্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া তিনি চারুপীঠ যশোরের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।
