বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
আবাসিক এলাকায় আইন অনুযায়ি শিল্প কারখানা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও অবৈধ হলেও মানা হচ্ছে না এ সব আইন। শহরের ঘোপ জেল রোড বেলতলায় আবাসিক এলাকায় বসত ঘরের সামনে গড়ে তোলা হয়েছে সোহাগ অটো নামে অবৈধ অটো রিকশা তৈরির কারখানা। সরকারের মোটা অংকের টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনা করা হলেও দেখার যেন কেউ নেই। প্রশাসন বা আইন প্রয়োগকারি সংস্থা সবাই যেন সোহাগের ক্ষমতার কাছে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে।
দেশের নগর পরিকল্পনা, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা এবং বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ডিএপি) অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় কেবল মানুষের বসবাসের উপযোগী স্থাপনা ও অতিপ্রয়োজনীয় কিছু সেবা খাতের বাইরে কলকারখানা বা ভারি ও মাঝারি শিল্প স্থাপন করা যাবে না। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে আবাসিক এলাকার ভেতরে ক্ষতিকর বা ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার (যেমন: প্লাস্টিক, কয়েল, কেমিক্যাল বা ভারী কারখানা) জন্য কোনো ছাড়পত্র বা লাইসেন্স দেয়া হয় না।
বাস্তব পরিস্থিতি ও হাইকোর্টের নির্দেশনা
যদিও বহুসংখ্যক কারখানা আবাসিক এলাকায় অননুমোদিত ভাবে গড়ে উঠেছে, উচ্চ আদালত ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর (পিওবিএ) কঠোর নির্দেশনা রয়েছে যে আবাসিক এলাকা থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ কারখানা অপসারণ করতে হবে। সরকারও আবাসিক এলাকা থেকে শিল্পকারখানা সরিয়ে নিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে থাকে।
কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে উপশহর ইউনিয়নের এক বিতর্কিত জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রভাবশালী পলাশের মাদকসহ নানা অপরাধের সহযোগী সোহাগ অটোর স্বত্ত্বাধিকারী এসব আইন কানুন বা সরকারের কোন নির্দেশনার ধার ধারে না। তার উক্তি আমার ক্ষমতা অনেক। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আমি নিয়মিত টাকা দিই।
তবে স্থানীয়দের দাবি সারারাত ধরে কারখানায় অটো রিকশা তৈরির আঁড়ালে ওই বিতর্কিত জনপ্রতিনিধি ও পলাশসহ অন্যান্যরা মাদক সেবনসহ নানা অপকর্ম করে। এ অবস্থায় কারখানাটির বিরুদ্ধে আশু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। এদিকে দৈনিক বাংলার ভোরসহ কয়েকটি বিভিন্ন গণমাধ্যমের সোহাগ অটোর এসব কর্মকাণ্ডের তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশের পরও প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি। এ অবস্থায় আরো বেশি হতাশা ব্যক্ত করেছেন এলাকাবাসী।
