বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশকারী আয়কর আইনজীবী জুয়েল আক্তার মুন্সীকে বাড়িতে গিয়ে চার লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। রোববার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে জুয়েল আক্তার মুন্সী এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সাড়া পাওয়ায় একটি পক্ষ তার সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার ও হয়রানি করছে। বিভিন্ন অজুহাতে তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জুয়েল আক্তার বলেন, গত ২২ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ইছালীর মনোহরপুর বাজারে নিজ বাড়িতে ছিলেন। এ সময় ইছালী ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আশরাফ বিশ্বাস, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাত্তার রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল বিশ্বাস, ইছালী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মুন্না বিশ্বাসসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী এবং সাইফুজ্জামানসহ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন তার বাড়িতে যান।
তার অভিযোগ, তারা তাকে গালিগালাজ করে চার লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দাবির কারণ জানতে চাইলে সাইফুজ্জামানের স্ত্রী নিশি খাতুনের সঙ্গে তার বৈবাহিক বিরোধ ও তালাকের ঘটনায় চার লাখ টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
জুয়েল আক্তার দাবি করেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। প্রায় তিন মাস আগে পারিবারিক বিরোধের সময় সাইফুজ্জামান তার কাছে আইনি সহযোগিতা চান। আইনজীবী হিসেবে তিনি তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পরে সাইফুজ্জামানের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার স্ত্রীর গ্রামের বাড়ি এলাকায় যান। সেখানে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে নিশি খাতুনকে থানায় আসতে বলা হলেও তিনি আসেননি। দুই দিন অবস্থানের পর তার সঙ্গে দেখা না হওয়ায় তিনি যশোরে ফিরে আসেন।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে জানতে পারেন, গত ২৭ জুলাই সাইফুজ্জামান তার স্ত্রীকে তালাক দেন এবং দুই পরিবারের সমঝোতায় দেনমোহর বাবদ চার লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। ওই অর্থের সঙ্গে তার কোনো আর্থিক সংশ্লিষ্টতা নেই।
এমনকি নিশি খাতুনের সঙ্গে তার কখনো সরাসরি সাক্ষাৎও হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
জুয়েল আক্তার বলেন, এসব ঘটনায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন এবং আদালতে মামলাও করেছেন। বিষয়গুলো তদন্তাধীন রয়েছে। তবে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার পরও পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যশোরের পুলিশ সুপার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান।
