অভয়নগর সংবাদদাতা :
যশোরের অভয়নগরে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের সরকারি ঘর বিক্রি ও দখলের অভিযোগ উঠেছে। নওয়াপাড়া পৌরসভার আলীপুর গ্রামের এ প্রকল্পে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ঘর একাধিকবার হাতবদল হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় জরাজীর্ণ ঘরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সেখানে বসবাসরত পরিবারগুলো।
জানা গেছে, আলীপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে মোট ২২টি ঘর রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকল্পের ৭ ও ৮ নম্বর ঘরে পরিবারের সদস্য ও ভাগ্নির পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন চেঙ্গুটিয়া এলাকার ইটভাটাশ্রমিক আব্দুল বারিক। তাঁর দাবি, আলীপুর বাজারের চা-দোকানি সাকিবের কাছ থেকে ঘর দুটি প্রতিটি ৭০ হাজার টাকা করে কিনেছেন। বড় মেয়ে ও জামাতার দেওয়া টাকায় ঘর দুটি কেনেন তিনি।
তবে স্থানীয়দের দাবি, আব্দুল বারিকের আগে ঘর দুটি অন্তত তিনবার হাতবদল হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে প্রতিটি ঘর ২০ হাজার টাকা, পরে ৩০ হাজার ও ৪০ হাজার টাকা এবং সর্বশেষ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। তবে ঘর দুটির মূল বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি কে ছিলেন এবং সাকিব কীভাবে ঘর দুটির নিয়ন্ত্রণ পান, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার দোকানে গিয়ে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
প্রকল্পের অন্যান্য ঘর নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নিজস্ব জমি ও বাড়ি থাকা সত্ত্বেও কেউ কেউ প্রভাব খাটিয়ে প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ নিয়েছেন। তাদের অনেকে নিয়মিত বসবাস না করে মাঝেমধ্যে এসে ঘর পরিষ্কার করে আবার তালাবদ্ধ করে চলে যান।
প্রকল্পের ২ নম্বর ঘরের বরাদ্দপ্রাপ্ত ইয়াসমিন আক্তার মুন্নিকে ঘর থেকে উচ্ছেদের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। তাদের ভাষ্য, এক আত্মীয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে মুন্নি কয়েক দিনের জন্য বাইরে গেলে তার অনুপস্থিতিতে স্থানীয় এক মসজিদের মুয়াজ্জিনকে ঘরটিতে থাকতে দেওয়া হয়। পরে মুন্নি ফিরে এলে তাকে নানা অপবাদ দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়।
বর্তমানে তিনি অসহায় অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। পরে ওই মুয়াজ্জিন চলে গেলে আব্দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি ঘরটির দখল নেন বলে জানা গেছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে প্রকল্পের ঘরগুলোর অবকাঠামোগত অবস্থাও নাজুক। সরেজমিনে দেখা যায়, দেয়ালে বড় বড় ফাটল, মেঝেতে ভাঙন এবং টিনের চালে ক্ষতি রয়েছে। ১৩ নম্বর ঘরের বাসিন্দা রিনা বেগম বলেন, বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে। সংস্কারের জন্য একাধিকবার কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়েও কোনো কাজ হয়নি। বাধ্য হয়ে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ঘর মেরামত করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেখ সালাহ উদ্দিন দীপু বলেন, সরকারি বরাদ্দের ঘর হস্তান্তর বা বিক্রির কোনো আইনি সুযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর মেরামতের জন্য আলাদা কোনো বিশেষ সরকারি বরাদ্দ নেই বলেও জানান তিনি।
