বাংলার ঘর গৃহস্থলী ডেস্ক :
ঘর সুন্দর করতে দামি আসবাব কিংবা অতিরিক্ত সাজসজ্জার প্রয়োজন নেই। পরিমিতিবোধ, প্রাকৃতিক উপকরণ ও ব্যক্তিগত রুচির সমন্বয়েই ঘরে আনা সম্ভব নতুনত্ব। পরিচিত জিনিসের অবস্থান পরিবর্তন, অপ্রয়োজনীয় উপকরণ সরিয়ে রাখা এবং রং ও কাপড়ের সামান্য পরিবর্তনেই বদলে যেতে পারে ঘরের চেহারা।
ফ্যাশন ও ইন্টেরিয়র ডিজাইন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রেডিয়েন্ট ইনস্টিটিউট অব ডিজাইনের প্রতিষ্ঠাতা ও অন্দরসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিনের মতে, অতিরিক্ত সাজসজ্জা অনেক সময় ঘরকে কৃত্রিম, অগোছালো ও একঘেয়ে করে তোলে। তাই ঘর সাজাতে প্রয়োজন পরিকল্পনা ও পরিমিতিবোধ।
ছোট শোপিসের ভিড় এড়িয়ে চলুন
বসার ঘরের তাক, টেবিল কিংবা দেয়ালের সামনে অসংখ্য শোপিস, পুতুল ও ফুলদানি রাখলে সৌন্দর্যের পরিবর্তে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। এর বদলে একটি বড় ফুলদানি, মাটির পাত্র কিংবা নান্দনিক ভাস্কর্য ব্যবহার করা ভালো। এতে ঘর পরিপাটি দেখায় এবং বিশেষ অনুষঙ্গটি সহজেই নজর কাড়ে।
ঋতুর আমেজ আনুন রং ও কাপড়ে
ঋতুভিত্তিক কৃত্রিম সাজসজ্জার পরিবর্তে কুশন, পর্দা ও চাদরের রং বদলে ঘরে নতুন আবহ তৈরি করা যায়। শরৎ, হেমন্ত কিংবা শীতে পোড়া কমলা, জলপাই সবুজ ও লালচে বাদামি রং ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্যদিকে বসন্তে হালকা সবুজ, গোলাপি কিংবা হলুদাভ রং ঘরে সতেজতা আনে।
প্রাকৃতিক উপকরণে স্বস্তির পরিবেশ
কাঠ, পাট, বেত, সুতি, লিনেন ও মাটির তৈরি উপকরণ ঘরের সাজে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যোগ করে। তবে সব আসবাব একই রং বা নকশার হওয়া জরুরি নয়। বরং বিভিন্ন উপকরণের সমন্বয়ে ঘরে বৈচিত্র্য আনা সম্ভব।
কৃত্রিম ফুলের বদলে প্রাকৃতিক সাজ
প্লাস্টিকের ফুল, ফল কিংবা নকল লতাপাতার অতিরিক্ত ব্যবহার ঘরের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট করতে পারে। এর পরিবর্তে তাজা ফুল, শুকনো ফুল, পাতার ডাল কিংবা প্রাকৃতিক বুননের ঝুড়ি ব্যবহার করা যায়। এসব উপকরণ ঘরে স্নিগ্ধ পরিবেশ তৈরি করে।
কাপড়ের বুননে আনুন বৈচিত্র্য
সোফা, চেয়ার ও কুশনে একই ধরনের কাপড় ব্যবহারের পরিবর্তে বিভিন্ন বুননের কাপড় বেছে নেওয়া ভালো। মসৃণ সোফার সঙ্গে বোনা কুশন, সুতি চাদর কিংবা বেতের আসন ঘরের সাজে নতুন মাত্রা যোগ করে।
অন্দরসজ্জাবিদদের পরামর্শ, ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে বাহুল্যের চেয়ে স্বাচ্ছন্দ্য, রংয়ের সামঞ্জস্য ও ব্যক্তিগত পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ সুন্দর ঘর মানেই দামি আসবাব নয়; বরং পরিপাটি, আরামদায়ক ও রুচিশীল পরিবেশই ঘরের প্রকৃত সৌন্দর্য।
