বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
শুক্রবার সকাল ১১টায় কৃষক সংগ্রাম সমিতি যশোর সদর থানা কমিটির উদ্যোগে হাটসভা অনুষ্ঠিত হয়। জ্বালানি তেল, সার তথা কৃষি উপকরণসহ দ্রব্যমূল্য উর্দ্ধগতি রোধ, নদী খনন, অবিলম্বে ন্যায্যমূল্যে পর্যাপ্ত সার ও নিরবচ্ছিন বিদ্যুৎ সরবরাহ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে মনোহরপুর বাজারে এ হাটসভা হয়েছে।
পথসভায় সভাপতিত্ব করেন সদর থানা কমিটির অন্যতম নেতা নজরুল ইসলাম। পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ বিশ্বাস। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোহরাব উদ্দিন মাস্টার, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সদর থানা কমিটির সভাপতি শাহারিয়ার আমির ও সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট আহাদ আলী লস্কর প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ ২ দফায় ডিজেলসহ জ্বালানীর মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে, দ্রব্যমূল্য উর্দ্ধগতি রোধ, নদী খনন, অবিলম্বে ন্যায্যমূল্যে পর্যাপ্ত সার ও নিরবচ্ছিন বিদ্যুৎ সরবরাহ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে কৃষক-জনতাকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন অগ্রসর করার আহ্বাণ জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বন্যা, জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা তথা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিপর্যস্থ ভূক্তভোগি মানুষের সংকট সমাধানের জন্য আমরা আশু, মধ্যমেয়াদী ও স্থায়ী সমাধানের দাবিসমূহ উপস্থাপন করেছি।
আমরা আশা করেছিলাম উক্ত দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিপর্যস্থ মানুষজনকে রক্ষা করা হবে। কিন্তু সরকার সে পথে না হেঁটে আবারও অপরিকল্পিত নদী খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে ১৪০ কোটি টাকা অপচয় করে সমস্যা বৃদ্ধি করেছে। নদীর মাটি কেটে নদীর মধ্যে ফেলে নদীকে খালে পরিণত করা হয়েছে।
ক্রস বাঁধ দিয়ে খনন (ভদ্রা, শ্রী ও হরি নদী) কাজ করার কারণে নদীর ভাটির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে জলাবদ্ধতা সমস্যাকে সুতীব্র করে ভূক্তভোগি মানুষের জীবন-জীবিকা দুর্বিষহ করে তুলেছে। আমরা বার বার বলে আসছি যে, লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে প্রমাণিত পথ হচ্ছে- অবাধ জোয়ার-ভাটার মাধ্যমে নদীকে নাব্য রাখা এবং বিলের ভূমির গঠন কাজ সম্পন্ন করা।
এর বাইরে যে পথেই হাঁটা হোক না কেন সে পথে জলাবদ্ধতা সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে না বরং উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। বিগত সময়ে আমরা স্পষ্টভাবে দেখিয়েছি যে, এ অঞ্চলের নিম্নভূমি উঁচু করা ছাড়া বিকল্প কোন পথ নাই। অবাধ জোয়ার-ভাটা সৃষ্টির মাধ্যমেই সেটি সম্ভব।
এর বাইরে সরকার ভাবতে পারে যে, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদীর জোয়ার বাহিত ও নদীগর্ভের পলি কেটে নিম্নভূমি উঁচু করতে যদিও তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। একই সাথে এটি স্থায়ী কোন সমাধানও নয়। বরং ক্রমান্বয়ে প্রতিটি বিলে অবাধ জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি করা ও জোয়ার-ভাটা সৃষ্টিকারী প্রতিটি বিলের সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলির মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য সরবরাহ করে কর্মহীন জনগণকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তাহলে টাকার অপচয়ও হবে না, মানুষ বাঁচতে পারবে।
সুতরাং এই মুহুর্তে ভদ্রা নদীতে (খর্নিয়ার ভাটির অংশের) পলি বিআইডাব্লিউটিএ-এর উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার দ্বারা খনন ও আমাদের গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে মাননীয় খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের নিকট উপস্থাপিত আশু, মধ্যমেয়াদী ও স্থায়ী সমাধানের দাবিসমূহ বাস্তবায়ন করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করার জোর দাবি জানিয়ে সর্বশেষ গত ৩১ আগস্ট যশোর জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছিলো।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জেলার কোথাও সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলারদের কাছে ছুটে কৃষকরা হয়রানির শিকার হচ্ছে। খোলা বাজারে উচ্চমূল্যে চাহিদার চেয়ে কম পরিমাণ সার পাওয়া যাচ্ছে যা চলতি কৃষি উৎপাদন ব্যাহত করবে এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি করবে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুতের সঙ্কট।
কিন্তু জেলা প্রশাসন দাবি করে জেলায় র্পাপ্ত সার রয়েছে! এর মধ্যে সরকার ২দফায় ডিজেলসহ জ্বালানীর দাম বৃদ্ধি করে সংকট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মূলত কৃষক ও কৃষি খাত ধ্বংসের জন্য দায়ি হচ্ছে পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ব ব্যবস্থা ও তার এদেশীয় দালালরা।
সরকার তাদের পক্ষ নিয়ে ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত বাস্তবায়ন করায় এই সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে যার সর্বশেষ উদারহণ হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তি। একদিকে জীবন-জীবিকার ব্যয় দুর্বিষহ অপরদিকে কৃষি উৎপাদনের সঙ্কট কৃষককে বিক্ষুব্ধ করে তুলছে যা উৎপাদনকে ব্যাহত করছে।
অবিলম্বে ২ দফায় বর্ধিত জ্বালানীর দাম প্রত্যাহার, ন্যায্যমূল্যে পর্যাপ্ত সার, নিরবচ্ছিন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবি জানানো হয়।
