কাজী নূর :
আগাম শীতকালীন সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে স্বস্তির বাতাস বইতে শুরু করেছে। মুরগির দাম বৃদ্ধি পেলেও ডিমের বাজারেও দরপতন ঘটায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন সাধারণ ক্রেতারা। এদিকে সবজি বিক্রেতারা বলছেন শীত যত এগিয়ে আসবে দিনে দিনে সবজির সরবরাহ ততটা বৃদ্ধি পাবে এবং দাম আরো কমবে। অপরদিকে মুরগির বিক্রেতারা বলছেন সমানে সিজনে আসছে আরো দাম বৃদ্ধির আশংকা রয়েছে।
শুক্রবার সকালে যশোরের হাজী মোহাম্মদ মহসিন রোড বড়বাজার এবং পিটারসন রোড চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড বাজারে সরেজমিন ঘুরে মিলেছে এসব তথ্য।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে বর্তমানে মানভেদে ফুলকপি কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পালংশাক ৮০ টাকা, শিম ১২০ টাকা, মেটে আলু ৮০ থেকে ১০০ টাকা, মিচুড়ি ৯০ থেকে ১০০ টাকা, মূলা ৪০ টাকা বিক্রি হয়েছে। আগাম শীতকালীন এসব সবজি গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে অন্তত ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এছাড়া বেগুন ৫০ থেকে ৮০ টাকা, উচ্ছে ৬০ থেকে ১০০ টাকা, ওল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ধুন্দল ৩০ থেকে ৪০, পটল ৩০ টাকা, পেঁপে ১৫ থেকে ২০ টাকা, কাকরোল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুর লতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মুখি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ঝিঙে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বরবটি ৫০ থেকে ৬০, কাঁচা কলা ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়ো ৪০ থেকে ৫০ টাকা, টমেটো ১২০, ঢেরস ৫০ থেকে ৬০ টাকা, সবুজ শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কুশি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এছাড়া আকারভেদে লাউ ৩০ থেকে ৪০ টাকা ও চাল কুমড়ো ২০ থেকে ৩০ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি হয়েছে।
বড় বাজারের সবজি বিক্রেতা ইন্তাজ আলী বলেন, বাজার এখন হরেক রকম সবজির সমারোহে ভরপুর। এর মধ্যে আগাম শীতকালীন সবজির সরবরাহ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে দাম কিছুটা কমেছে।
পিটারসন রোড, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড বাজারের সবজি বিক্রেতা মিন্টু শেখ ও সালাম মোল্লা বলেন, বাজারে মৌসুমি সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও ক্রেতার দৃষ্টি আগাম শীতকালীন সবজির দিকে। মৌসুমি সবজির তুলনায় আগাম শীতকালীন সবজির দাম কিছুটা বেশি হলেও ক্রেতা স্বাচ্ছন্দ্যে তা কিনছেন।
ওয়াপদা এলাকার বাসিন্দা সৈয়দা কামরুন নাহার বলেন, এখন শীতকালীন সবজি খেতে মজা তাই ফুলকপি এবং পালংশাক কিনেছি। যদিও দাম একটু বেশি তবুও স্বাদে নতুনত্ব তাই দাম বিষয় না।
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন কলেজের ছাত্র আতিকুজ্জামান চৌধুরী হিমেল বলেন, বাজারে সবজির দাম একটু বেশি। বিশেষ করে শীতকালীন সবজি নাগালের বাইরে। ক্রেতার চাহিদা থাককায় বিক্রেতারা সুযোগ নিচ্ছে।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ১ থেকে দেড় কেজি সাইজের রুই ২৮০ টাকা, ৩ থেকে সাড়ে ৩ কেজি সাইজের রুই ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা, আড়াই কেজি সাইজের কাতলা ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা, ৪ থেকে সাড়ে ৪ কেজি সাইজের কাতলা ৪৫০ টাকা, নাইলোটিকা ১৮০ থেকে ২৭০ টাকা, কৈ ২২০ থেকে ৩০০ টাকা, বেলে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, পুঁটি ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, টেংরা ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, চাপলে ৪০০ টাকা, পাঙাশ ১৮০ থেকে ৩০০ টাকা, চাকা চিংড়ি ৮০০ টাকা, বাগদা চিংড়ি ৮০০ টাকা, হরিণা চিংড়ি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, পাবদা ৩৮০ থেকে ৫০০ টাকা, পোয়া ৪০০ টাকা, ভেটকি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা ও পারশে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা বিক্রি হয়েছে।
মাছ বিক্রেতা আলমগীর হোসেন বলেন, মাছের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে চলতি সপ্তাহ থেকে দাম কিছুটা কমতে শুরু হতে পারে।
শহরের ঘোপ জেল রোড পলিটেকনিক সড়কের বাসিন্দা আনোয়ার জাহিদ বলেন, মাছের গায়ে আগুন, হাত দেবার উপায় নেই।
মুরগির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকা ও সোনালি মুরগি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা বিক্রি হয়েছে। যা গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিসমিল্লাহ ব্রয়লার হাউজের স্বত্বাধিকারী নুরুজ্জামান জনি বলেন, এখন মুরগির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। দশ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে এটা ধরার মধ্যে পড়ে না। সামনে সিজন আসছে। তখন দাম বৃদ্ধির আশংকা রয়েছে।
এছাড়া গরুর মাংস কেজি প্রতি ৭৭০ থেকে ৮০০ টাকা ও খাসির মাংস ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকা বিক্রি হয়েছে।
বাবুঘাট কাঠেরপুলের সাব্বির বীফ হাউজের ব্যবস্থাপক সৈয়দ আকরামুল হাসান বলেন, আমরা পূর্বের চেয়ে বাড়তি দামে গরু কিনছি। কিন্তু তার প্রভাব খুচরা পর্যায়ে পড়েনি। এজন্য আমাদের লাভ খুব সীমিত হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগে খামার বৃদ্ধি এবং গোখাদ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে গরুর মাংসের দাম স্থিতিশীল থাকবে বলে জানান আকরামুল হাসান।
ভোলা মিয়ার খাসির মাংস ঘরের পরিচালক শেখ শিপন মিয়া বলেন, দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বিক্রিও ভালো হচ্ছে।
মুদিপণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল কেজি প্রতি ২০৭ থেকে ২১০ টাকা, সরিষার তেল ২২০ থেকে ২৪০ টাকা, পাম তেল থেকে ১৮৭ থেকে ১৯০ টাকা, সুপার তেল ১৯৪ থেকে ১৯৮ টাকা, পোলাও চাল ১৫০ থেকে ২৩০ টাকা, আটা ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা, ময়দা ৬২ থেকে ৭২ টাকা, ছোলার ডাল ১০০ থেকে ১১০ টাকা, মুগ ডাল ১৫৫ থেকে ১৮০ টাকা, বুটের ডাল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মসুরি ডাল ১১০ থেকে ১৬০ টাকা, সাদা চিনি ১১০ টাকা, লাল চিনি ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, রসুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা, আদা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা বিক্রি হয়েছে।
গোহাটা রোডের মুদি পণ্য বিক্রেতা শ্যামল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শ্যামল কুন্ডু জানান, পোলাও চালের দাম স্থিতিশীল থাকছে না। বোতলজাত সয়াবিন তেল নিয়েও কোম্পানির নানা কারসাজি চলছে।
ডিমের বাজার ঘুরে দেখা গেছে বর্তমানে লাল ডিম হালি প্রতি ৪৪ থেকে ৪৬ টাকা, সাদা ডিম ৪২ থেকে ৪৪ টাকা, হাঁস ৬৫ টাকা, দেশি মুরগি ৭০ থেকে ৭২ টাকা ও কোয়েল পাখির ডিম ১২ টাকা বিক্রি হয়েছে।
শাফিন স্টোরের স্বত্বাধিকারী আজমল হোসেন বলেন, ডিমের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমেছে। আরো কিছুটা কমবে এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
চালের বাজার চাউল চান্নী ঘুরে দেখা গেছে, মিনিকেট ৫৭ টাকা, সুপার মিনিকেট ৫৬ থেকে ৬১ টাকা, বাসমতি ৭৬ থেকে ৮২ টাকা, আটাশ ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, কাজললতা ৫৩ টাকা, বিল আমন ৬০ টাকা, নাজিরশাল ৯২ থেকে ৯৫ টাকা, স্বর্ণা ৫০ থেকে ৫৩ টাকা, মোটা ৬১ টাকা ও নূরজাহান ৫০ টাকা, বিক্রি হয়েছে।
চালের পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান নিউ মা কালী ভান্ডারের স্বত্বাধিকারীরা অভিজিৎ ভৌমিক বলেন, কয়েক মাস চালের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। তবে বিক্রি ভালো না।
