বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোরে পরকীয়ার সন্দেহে স্ত্রী শাহানাজ খাতুন ওরফে শাহানারাকে হত্যার পর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন তার স্বামী মাদকাসক্ত স্বামী আতিয়ার রহমান। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে যশোর সদর উপজেলার শানতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাজমিস্ত্রী স্বামীকে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
নিহত শাহানাজ খাতুনের বাবার বাড়ি মণিরামপুর উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামে। স্থানীয় পেপসি কোম্পানিতে কাজ করতেন তিনি।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্ত্রীর অন্য পুরুষের সঙ্গে বিবাহবহির্ভুত সম্পর্ক রয়েছে এমন সন্দেহ করতেন আতিয়ার রহমান। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এর জেরে প্রায় চার মাস আগে স্ত্রীকে তালাক দেন আতিয়ার। তবে বিচ্ছেদের পরও স্ত্রীর কাছে যাতায়াত করতেন তিনি। গত সপ্তাহে তাদের ছেলে রায়হান হোসেনের মধ্যস্থতায় আবারও একসঙ্গে বসবাস শুরু করলেও সন্দেহ ও বিরোধের অবসান হয়নি।
নিহতের ছেলে রায়হান হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে তার বাবা-মায়ের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। রাতভর তাদের মধ্যে ঝগড়া চলে। একপর্যায়ে তার বাবা মাকে মারধর করেন এবং গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। রাতে মায়ের মোবাইল ফোনে কল করলে বাবা তাকে জানান, তাঁর মা ঘুমিয়ে আছেন। কিন্তু সকালে তিনি মায়ের মৃত্যুর খবর পান।
নিহতের ছোট বোন আন্না খাতুন জানান, তার ভগ্নিপতি আতিয়ার রহমান মাদকাসক্ত। মাদকাসক্তি ও নানা কলহের জেরে এ দম্পতির বিচ্ছেদ হয় কয়েক মাস পূর্বে। কয়েক সপ্তাহ পূর্বে ছেলের মধ্যস্থতায় তারা ফের এক সঙ্গে বসবাস শুরু করে।
স্থানীয় বাসিন্দা রীমা খাতুন জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করতেন আতিয়ার। এ নিয়ে তাদের বিচ্ছেদও হয়েছিল। পরে ছেলে বুঝিয়ে মাকে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। শুক্রবার সকালে তিনি জানতে পারেন, শাহানারাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর আতিয়ার রহমান কোতোয়ালি থানায় গিয়ে স্ত্রীকে হত্যার কথা জানিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ শানতলার বাড়ি থেকে শাহানারার মরদেহ উদ্ধার করে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাজীব রায় চৌধুরী জানান, শাহানারাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তার শরীরে আঘাতেরও চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. বদরুজ্জামান জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযুক্ত আতিয়ার রহমান থানায় এসে হত্যার কথা স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেন। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। অভিযুক্ত বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
