পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকের পঞ্চম দিন আজ। আর মাত্র ৪-৫ দিন বাকি এই বরকতময় মাসের। তাই বাকি দিনগুলোতে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বাভাবিকভাবে রোজা পালন কঠিন হয়ে যেতে পারে। এ কারণে রোজাদারদের সুস্থতার বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি দক্ষিণ পশ্চিম রিজিয়ন সদর দপ্তর যশোরের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মোস্তফা আল আসাদ। তার সাথে কথা বলে বিষয়টি তুলে ধরেছেন কাজী নূর।
আত্মসংযমের পাশাপাশি শরীরকে সুস্থ রাখার প্রাকৃতিক পদ্ধতি রোজা, যা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। রক্তের কোলেস্টেরল, সুগার, হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো, ওজন কমানো, হজমতন্ত্রের উন্নতি, শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করা, দীর্ঘদিনের জমানো পুরাতন কোষ, ফ্রী রেডিক্যাল, এমনকি কখনো কখনো টিউমার বা ক্যান্সার কোষকেও ধংস করে। এছাড়া নানাবিধ উপকারিতা রয়েছে।
তবে রোজায় সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে না চললে শরীরে নানা ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। মূলত ইফতার ও সেহরিতে অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং অনিয়মের কারণে বিভিন্ন সমস্যা দেখা যায় যেমন পানিশূন্যতা, এসিডিটি, গলা বুক জ্বালাপোড়া, পেট ফাঁপা- বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য, শারীরিক দুর্বলতা, মাথা ব্যথা, হাইপোগ্লাসেমিয়া বা শর্করার স্বল্পতা, মাথা ঘুরানো, মাংসপেশীতে টান, ক্লান্তি ছাড়াও বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।
আমরা ইফতার এবং সেহেরিতে গতানুগতিক যে খাবারগুলো খেয়ে থাকি সে তালিকায় অনেক সময় পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবে এই সংযমের মাসে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা থেকে কিছু খাবার বাদ দিলে এবং প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ খাবারগুলো যোগ করলে বিভিন্ন সমস্যা থেকে রেহাই পেতে পারি ইনশাআল্লাহ। তাছাড়া রোজায় ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্য তালিকা বেছে নিতে হবে। চলুন দেখে নেই ইফতার এবং সেহরিতে
কোন কোন খাবার কতটুকু, কিভাবে খাব ?
স্বাস্থ্যসম্মত আদর্শ ইফতার : সুন্নত অনুযায়ী প্রথমে ১-৩ টি খেজুর এবং বিশুদ্ধ সাধারণ পানি পান করা উচিত। লেবুর শরবত, ডাবের পানি, তোকমা, ইসবগুলের শরবত, বাঙ্গি, পাকা পেঁপে, বেলের শরবত ইত্যাদি যা সারাদিনের পানির শূন্যতা কমাবে। পেঁপে, আপেল, আঙুর, বেদানা, পাকা কলা, তরমুজ, পেয়ারা, কলা ইত্যাদি। এছাড়া শসা, টমেটো, গাজর, লেটুসপাতা ইত্যাদি। ইফতারে সেদ্ধ ছোলা, দই চিড়া এবং বাড়িতে তৈরী পেঁয়াজু, বেগুনি দুএকটি খাওয়া যেতে পারে।
রোজায় সন্ধ্যা রাতের খাবার গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। রাতে লাল চালের হাফ প্লেট ভাত, প্রচুর পরিমাণে সবজি, এক টুকরো মাছ অথবা মাংস, সাথে পাতলা ডাল হলে ভালো। যাদের পাইলস বা এনাল ফিশার রয়েছে তাদের গরুর মাংস এড়িয়ে চলা উত্তম।
স্বাস্থ্যসম্মত আদর্শ সেহরি : ১ থেকে দেড় প্লেট লাল চালের ভাত কিংবা ২-৩ টি লাল আটার রুটি, এক বাটি সবজি, ১টি সেদ্ধ ডিম এবং ১ টুকরো মাছ বা মাংস, ১ গ্লাস দুধ, টক দই খাওয়া যেতে পারে। সেহেরিতে সব খাবার কম করে খাওয়া ভালো। তাহলে বদহজম হবার আশংকা থাকে না। তবে সারাদিনের চলার শক্তি ধরে রাখবে এমন খাবার নির্বাচন করা ভালো।
রমজানে গুরুত্বপূর্ণ টিপস : পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন যার ফলে সারাদিন পানি শূন্যতা দেখা দেবে না। সাধারণত একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে দুই থেকে আড়াই লিটার পানি প্রয়োজন। রোজার মাসে পানির পরিমাণ ইফতার থেকে সেহরির মধ্যে নির্দিষ্ট বিরতিতে ভাগ করে নিতে হবে। সিগারেট, চা, কফি, লবণাক্ত খাবার এসব থেকে বিরত থাকতে হবে।
অন্যথায় তৃষ্ণার্থ এবং এসিডিটি সমস্যায় ভুগবে। সহজপাচ্য এবং অধিক ফাইবারযুক্ত খাবার খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে যেমন লাউ, পেঁপে, শাকসবজি ইত্যাদি যা বদহজম এবং কোষ্ঠকাঠিন্যতা থেকে দূরে রাখবে। পেট ভরে খাবেন না অল্প অল্প করে কয়েকবার খান এবং খাওয়ার সাথে সাথে শুয়ে পড়বেন না একটু হাঁটাহাঁটি করুন। যে খাবারগুলো পানি ধরে রাখে যেমন, ফাইবারযুক্ত, লো ক্যালোরি এবং পেটকে ঠান্ডা রাখে সে রকম খাবার খেতে হবে যেমন, সালাদ, তরমুজ, শসা, পাকা পেঁপে, টকদই, পাকা কলা ইত্যাদি।
পবিত্র এই রমজান মাসে মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের রোজাকে কবুল করুন।


পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকের পঞ্চম দিন আজ। আর মাত্র ৪-৫ দিন বাকি এই বরকতময় মাসের। তাই বাকি দিনগুলোতে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বাভাবিকভাবে রোজা পালন কঠিন হয়ে যেতে পারে। এ কারণে রোজাদারদের সুস্থতার বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি দক্ষিণ পশ্চিম রিজিয়ন সদর দপ্তর যশোরের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মোস্তফা আল আসাদ। তার সাথে কথা বলে বিষয়টি তুলে ধরেছেন কাজী নূর।